Online Library
Hits: 29819
 5 / 1
PoorBest 

Review

Written by Super User

হাদীস আরবী শব্দ। আরবী অভিধান ও কোরআনের ব্যবহার অনুযায়ী ‘হাদীস’ শব্দের অর্থ- কথা,বাণী,বার্তা,সংবাদ,বিষয়,খবর ও ব্যাপার ইত্যাদি।

‘হাদীস’ শুধুমাত্র একটি আভিধানিক শব্দ নয়। মূলতঃ ‘হাদীস’ শব্দটি ইসলামের এক বিশেষ পরিভাষা। সে অনুযায়ী রাসূল(সাঃ)-এর কথা,কাজের বিবরণ কিংবা কথা,কাজের সমর্থন এবং অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত,ইসলামী পরিভাষায় তাই-ই ‘হাদীস’ নামে অভিহিত।

ব্যাপক অর্থে সাহাবীদের কথা,কাজ ও সমর্থন এবং তাবেয়ীদের কথা কাজ ও সমর্থনকেও হাদীস বলে।

কিন্তু,সাহাবা,তাবেয়ীদের ন্যায় তাবে তাবেয়ীনের কথা,কাজ ও সমর্থনের বিবরণও যে কোরআন হাদীসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ,তাতে সন্দেহ নেই।

যেহেতু রাসূলে করীম (সাঃ),সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীগণের কথা কাজ ও সমর্থন একই মূল বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রচলিত, সেই জন্য মোটামুটিভাবে সবগুলিকেই ‘হাদীস’ নামে অভিহিত করা হয়।

কিন্তু তবুও শরীয়তী মর্যাদার দৃষ্টিতে এই সবের মধ্যে পার্থক্য থাকায় প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা পরিভাষা নির্ধারণ করা হয়েছে। যথা- নবী করীম(সাঃ)-এর কথা কাজ ও অনুমোদনকে বলা হয় ‘হাদীস’।

সাহাবাদের কথা কাজ ও অনুমোদনকে বলা হয় ‘আছার’। তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীনদের কথা কাজ ও অনুমোদনকে বলা হয় ‘ফতোয়া’।


 

হাদীসের উৎসঃ হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) আল্লাহ মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল ছিলেন। সাথে সাথে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষও ছিলেন। এই জন্যে রাসূল(সাঃ)

এর জীবনের কার্যাবলীকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়-

. যা তিনি নবী ও রাসূল পদের দায়িত্ব পালন করার জন্য করেছেন।

. যা তিনি অন্য মানুষের মত মানুষ হিসেবে করেছেন। যেমন-খাওয়া-পরা,চলা-ফেরা- ইত্যাদি।প্রথম শ্রেণীর কাজ সমস্তই আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীনে সম্পাদিত হয়েছে। অবশ্য দ্বিতীয় শ্রেণীর কাজ এ ধরনের নয়। হাদীস সম্মন্ধে বলতে গিয়ে শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী(র.) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর হাদীস প্রদানত দুই প্রকারের-

প্রথম প্রকারঃ যাতে তার নবুওত ও রেসালাতের (নবী ও রাসূল পদের)দায়িত্ব সম্পর্কীয় বিষয়সমূহ রয়েছে। নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ এর অন্তর্গত-

১/ যাতে- পরকাল বা উর্ধ্ব জগতের কোন বিষয় রয়েছে। এর উৎস ওহী।

২/ যাতে- এবাদত ও বিভিন্ন স্তরের সমাজ ব্যবস্থার নিয়ম- শৃংখলাদি বিষয় রয়েছে। এর কোনটি উৎস ওহী আর কোনটির উৎস স্বয়ং রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-র ইজতেহাদ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-র ইজতেহাদও ওহীর সমপর্যায়ের।কেননা,আল্লাহ তা’আলা তাকে শরীয়ত সম্পর্কে কোন ভুল সিদ্ধান্তের ওপর অবস্থান করা হতে রক্ষা করেছেন।

৩/যাতে-এমন সকল জনকল্যাণকর ও নীতি কথাসমূহ রয়েছে,যে সকলের কোন সীমা বা সময় নির্ধারিত করা হয়নি। (অর্থাৎ,যা সার্বজনীন ও সার্বকালীন) যথা,আখলাক বা চরিত্র বিষয়ক কথা। এর উৎস সাধারণত তার ইজতেহাদ।

৪/যাতে- কোন আমল বা কার্য অথবা কার্যকারকের ফজীলত বা মহত্ত্বের কথা রয়েছে।এর কোনটির উৎস ওহী আর কোনটির উৎস তার ইজতেহাদ।

দ্বিতীয় প্রকারঃ –যাতে তার নবুওত ও রেসালাতের দায়িত্বের অন্তর্গত নয়,এরূপ বিষয়াবলী রয়েছে। নিম্নলিখিত বিষয়াবলী এর অন্তর্গত-

১/যাতে- চাষাবাদ জাতীয় কোন কথা রয়েছে।যথা-তাবীরে নখলের কথা।

২/যাতে- চিকিৎসা বিষয়ক কোন কথা রয়েছে।

৩/যাতে-কোন বস্তুর বা জন্তুর গূণাগুণের কথা রয়েছে।যথা, ‘ঘোড়া কিনতে গভীর কাল রং সাদা কপাল দেখে কিনবে।‘

৪/যাতে-সে সব কাজের কথা রয়েছে যে সব কাজ তিনি এবাদত রূপে নয় বরং অভ্যাস বশত অথবা সংকল্প ব্যতিরেকে ঘটনাক্রমে করেছেন।

৫/যাতে-আরবদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনীসমূহের মধ্যে তার কোন কাহিণী বর্ণনার কথা রয়েছে।যথা,উম্মেজারা ও খোরাফার কাহিনী।

৬/যাতে-সার্বজনীন,সার্বকালীন নয় বরং সমকালীণ কোন বিশেষ মোসলেহাতের কথা রয়েছে।যথা,সৈন্য পরিচালনা কৌশল।

৭/যাতে-তার কোন বিশেষ ফয়সালা বা বিচার সিদ্ধান্তের কথা রয়েছে।

এসবের মধ্যে কোনটির উৎস তার অভিজ্ঞতা,কোনটির উৎস ধারণা,কোনটির উৎস আদত-অভ্যাস,কোনটির উৎস দেশ-প্রথা আর কোনটির উৎস সাক্ষ্যপ্রমাণ(যথা,বিচার সিদ্ধান্ত)।(হাদীসের তত্ত্ব ও ইতিহাস,পৃ-২)

প্রথম প্রকার হাদীসের অনুসরণ করতে আমরা বাধ্য এবং দ্বিতীয় প্রকার হাদীসও আমাদের অনুকরণীয়।

হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবীঃ যে ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় রাসূলে করীম(সাঃ) কে একটুক্ষণের জন্যে হলেও দেখেছেন,অন্তত একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি সাহাবী। কথাগুলো মেশকাত শরীফের ভাষায় বলা যায়।

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে –

ক। রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন বা খ। তাকে দেখেছেন এবং তার একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন অথবা গ। তাকে একবার দেখেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তাকে ‘সাহাবী’ বলে।

তাবেয়ীঃ যিনি বা যারা ঈমানের সাথে কোন সাহাবীর সাহচর্য লাভ করেছেন,তার নিকট থেকে ইসলামী জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং সাহাবীদের অনুকরণ করেছেন তাদেরকে ‘তাবেয়ী’ বলে। কোন কোন মুহাদ্দিসের মতে সাহাবী থেকে অন্তত একটি হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন।

তাবে তাবেয়ীঃ একই নিয়ম অনুযায়ী যিনি বা যারা তাবেয়ীদের সাহচর্য লাভ করেছেন বা একটু সময়ের জন্যেও দেখেছেন,তাদের অনুকরণ অনুসরণ করেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তারাই ‘তাবে তাবেয়ী’।

রেওয়ায়েতঃ হাদীস বা আছার বর্ণনা করাকে ‘রেওয়ায়েত’ বলে।

রাবীঃ হাদীস বা আছার বর্ণনাকারীকে ‘রাবী’ বলে।

রেওয়ায়েত বিল মা’নাঃ অর্থের গুরুত্ব সহকারে হাদীস বর্ণনা করাকে ‘রেওয়ায়েত বিল মা’না’ বলে।

রেওয়ায়েত বিল লবজিহিঃ হুবহু অর্থাৎ নবী করীম(সাঃ)-এর সাহাবী,তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীনদের মুখনিঃসৃত শব্দ গুলিসহ হাদীস বর্ণনা করাকে ‘রেওয়ায়েত বিল লবজিহি’ বলে। এ ধরনের হাদীসের গুরুত্ব সব চাইতে বেশী।

মুনকার ও রেওয়ায়েতঃ যে দুর্বল বর্ণনাকারী রেওয়ায়েত বা হাদীস তদপেক্ষা সর্ব বর্ণনাকারীর রেওয়াতের পরিপন্থী হয় তাকে ‘মুনকার রেওয়ায়েত’ বলে।

দেরায়াতঃ হাদীসের মতন বা মূল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তির কষ্টিপাথরে যে সমালোচনা করা হয় হাদীস বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে দেরায়াত বলে।

“এটাকে হাদীস সমালোচনা যুক্তি-ভিত্তিক প্রক্রিয়ায়ো বলা যেতে পারে।এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক রয়েছে।তবে এর সারকথা এই যে।এতে হাদীসের মর্মকথা টুকুতে কোন ভুল,অসত্য,অবাস্তবতা এবং কোরআন ও সহীহ হাদীসের পরিপন্থী কিছু থাকলে এই পন্থার যাচাই-পরীক্ষায় তা ধরা পড়তে পারে না।অতএব কেবল মাত্র এই পদ্ধতিতে যাচাই করে কোন হাদীস উত্তীর্ণ পেলেই তা গ্রহণ করা যেতে পারে না।এই কারণে মূল হাদীস(মতন)-হাদীসের মর্মবাণীটুকু তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিবেচনার মানদন্ডে যাচাই করার উদ্দেশ্যে এই ‘দেরায়াত’ প্রক্রিয়ার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। হাদীস যাচাই পরীক্ষার ব্যাপারে ‘দেরায়াত’ নীতির প্রয়োগ ‘রেওয়ায়েত’ নীতির মতই কোরআন ও হাদীস সম্মত। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই কেবলমাত্র ‘রেওয়ায়েতের ঊপর নির্ভরশীল কোণ কথা গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত করিতে নিষেধ করেছেন।তিনি বরং দেরায়াত নীতির প্রয়োগ করতে কোরআনের বিভিন্ন স্থানে উৎসাহিত করেছেন।“ [হাদীস সংকলনের ইতিহাস-৬৫০ পৃ.]

যেমন- মদিনার মুনাফিকগণ হযরত আয়েশা(রাঃ)-এর নামে কুৎসা রটাচ্ছিল তখন কিছু সংখ্যক মুসলমানও কোন রকম বিচার বিবেচনা বাদেই তা বিশ্বাস করেন। এদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক কোরআনের এই আয়াত নাযিল করেন “তোমরা যখন সে কথা শুনতে পেয়েছিলে তখন তোমরা (শুনে) কেন বললে না যে, এ ধরনের কথা বলা আমাদের কিছুতেই উচিত নয়। তখন বলা উচিত ছিল যে,খোদা পবিত্র মহান,এ এক সুস্পষ্ট মিথ্যা কথা ও বিরাট দোষারোপ ছাড়া আর কিছুই নয়,এ কথা সত্য হয়া কিছুতেই সম্ভব নয়।’’ [সূরা নূর-৮১ আয়াত]

এখানে বলা হচ্ছে –যখন এ ধরনের অবিশ্বাস্য সংবাদ পৌছেছিল তখনই তা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়া উচিৎ ছিল এবং এর প্রচার-প্রসার বন্ধ করাও জরুরী ছিল।তাৎক্ষনিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জ্ঞানই দেরায়াত নীতির প্রয়োগ।

দেরায়াত প্রক্রিয়ার মূল নীতিগুলো হল-

১/হাদীস-কোরআনের সুস্পষ্ট দলীলের বিপরীত হবে না।

২/হাদীস-মুতাওয়াতের সূত্রে প্রমাণীত সুন্নাহের বিপরীত হবে না।

৩/হাদীস-সাহাব্যে কিরামের সুস্পষ্ট ও অকাট্য ইজমার বিপরীত হবে না।

৪/হাদীস-সুস্পষ্ট বিবেক বুদ্ধির বিপরীত হবে না।

৫/হাদীস-শরীয়তের চির সমর্থিত ও সর্বসম্মত নীতির বিপরীত হবে না।

৬/কোন হাদীস বিশুদ্ধ ও নির্ভুল গৃহীত হাদীসের বিপরীত হবে না।

৭/হাদীসের ভাষা আরবী ভাষার রীতি নীতির বিপরীত হবে না।কেননা নবী করীম(সাঃ) কোন কথাই আরবী নীতির বিপরীত ভাষায় বলেন নি।

৮/হাদীস-এমন কোন অর্থ প্রকাশ করবে না,যা অত্যন্ত হাস্যকর,নবীর মর্যাদা বিনষ্টকারী।

মরবি আনহুঃ যার নিকট থেকে হাদীস বা আছার বর্ণনা করা হয় তাকে ‘মরবি আনহু/ বলে।

সনদঃ হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্রে ও যে বর্ণনা পরম্পরা ধারায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌছেছে তাকে ইলমে হাদীসের পরিভাষায় সনদ বলে।

ইসনাদঃ মুখে মুখে হাদীসের সনদ আবৃতি করাকে ‘ইসনাদ’ বলে।

মতনঃ সনদ বাদে মূল কথা ও তার শব্দসমূহ হচ্ছে ‘মতন’।

রেজালঃ হাদীসের রাবী সমষ্টিকে ‘রেজাল’ বলে।

আসমাউর রেজালঃ যে শাস্ত্রে রাবীদের জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা করা হয়েছে তাকে ‘আসমাউর রেজাল’ বলে।

আসমাউর রেজাল সম্পর্কে ডঃ স্প্রেনগার তার “লাইফ অব মুহাম্মদ।“ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন—–

দুনিয়ায় এমন কোন জাতি দেখা যায়নি এবং আজও নেই যারা মুসলমানদের ন্যায় ‘আসমাউর রেজালের’ বিরাট তত্ত্ব ভান্ডার আবিষ্কার করেছে। আর এর বদৌলতে আজ পাঁচ লাখ লোকের বিবরণ জানা যেতে পারে।

 

আদালতঃ মানুষের ভিতরের যে আদিম শক্তি তাকে ‘তাকওয়া’ ও ‘মরুওত’ অবলম্বন করতে (এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত রাখতে) উদ্বুদ্ধ করে তাকে ‘আদালত’ বলে। ‘তাকওয়া’অর্থে এখানে শিরক,বেদাআত ফিছক ও প্রকৃতি কবীরা এবং বারবার করা সগীরা গুনাহ থেকে বেচে থাকাকে বুঝায়,’মরুওত’ সর্বপ্রকার বদ রসম রেওয়াজ থেকে দূরে থাকাকে বুঝায়’ যদিও তা মুবাহ হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-হাটে বাজারে প্রকাশ্যে পানাহার করা বা রাস্তাঘাটে প্রস্রাব করা ইত্যাদি।

আ’দেলঃ যে যে ব্যক্তি ‘তাকওয়া’ ও ‘মরুওত’ অর্জন করতে সক্ষ্ম হয়েছেন তাকে আ’দেল বলে অর্থাৎ যিনি

১/ হাদীস সম্পর্কে মিথ্যাবাদী বলে প্রতিপন্ন হননি,

২/সাধারণ কাজ কারবার মিথ্যাব্দী বলে কখনো সাব্যস্ত হননি,

৩/অজ্ঞাতনামা অপরিচিত অর্থাৎ দোষ গুণ বিচারের জন্য যার জীবনী জানা যায় নি এরূপ লোকও নন,

৪/বে-আমল ফাছেকও নন,অথবা

৫/বদ-এতেকাদ বেদাআতীয়ও নন তাকে আ’দেল বলে।

মুহাদ্দিসগণের মতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ কোন প্রকার মিথ্যার আশ্রয় নেননি।তাই তাদের সর্ব স্বীকৃত মত হচ্ছে –‘সকল সাহাবীই আ’দেল অর্থাৎ সত্যবাদী।

জবতঃ জবত হলো সেই শক্তি যা মানুষের শ্রুত ও লিখিত জিনিসের বিন্যাস থেকে রক্ষা করে অর্থাৎ স্মৃতিপটে জাগরিত করে হুবহু যখন তখন অপরের নিকট পৌছাতে পারে।

জাবেতঃ যে ব্যক্তি জবত গুণসম্পন্ন তাকে ‘জাবেত’ বলে।

ছেকাহঃ যে ব্যক্তির মধ্যে আ’দল গুণ পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যাবে তাকে ‘ছেকাহ’ বলে।

আসহাবে সুফফাঃ যে সমস্ত সাহাবী সব সময় রাসূল(সাঃ)-এর সাহচর্যে থাকতেন অর্থাৎ রাসূলের(সাঃ)-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং তার আদেশ নিষেধ শুনতেন ও কন্ঠস্থ করতেন এই নির্দিষ্ট সংখ্যক সাহাবীকে ‘আসহাবে সুফফা’ বলে।

মুহাদ্দিসঃ যিনি হাদীস শাস্ত্রে পন্ডিত অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ বা বিশারদ। যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাকেই মুহাদ্দিস বলে। মুহাদ্দিসগণ হাদীস শাস্ত্রের ওপর গবেষণায় নিয়োজিত থাকেন।

শায়খঃ যিনি হাদীস শিক্ষা দেন সেই রাবীকে তার শাগরিদের তুলনায় ‘শায়খ’ বলে।

হাফেজঃ যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত সমস্ত বৃত্তান্ত সহ একলক্ষ হাদীস আয়ত্ত বা মুখস্ত করেছেন তাকে ‘হাফেজ’ বা ‘হাফেজে হাদীস’ বলে।

হুজ্জাতঃ যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃতান্ত সহ তিন লক্ষ হাদীস মুখস্ত করেছেন বা আয়ত্ত করেছেন তাকে ‘হুজ্জাত’ বা ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ বলে।

হাকেমঃ যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ সমস্ত হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে ‘হাকেম’ বলে।

ফকীহঃ যারা হাদীসের আইনগত দিক পর্যালোচনা করেছেন তাদেরকে ‘ফকীহ’ বলে।

মোতাকাল্লেমীনঃ যে সমস্ত ব্যক্তিগণ হাদীস সম্পর্কিত দার্শনিক তথ্য পেশ করেছেন তাদেরকে ‘মোতাকাল্লেমীন’ বলে।

শায়খাইনঃ ইমাম বোখারী ও মুসলিমকে একত্রে ‘শায়খাইন’ বলে।(এখানে একটি কথা জেনে রাখা ভাল যে,খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে শায়খাইন বলতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক(রাঃ) ও হযরত ওমর(রাঃ)কেই বুঝায়।এভাবে হানাফী ফেকায় শায়খাইন বলতে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফকেই বুঝায়)।

সেয়াহ সেত্তাঃ যে ছয়খানা হাদীস গ্রন্থ ইসলামের ইতিহাসে অধিকতর বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছে তাকে “সেয়াহ সেত্তাহ” বলে।এগুলি হচ্ছে—

১. বোখারী শরীফ ২. মুসলিম শরীফ ৩. আবু দাউদ ৪. তিরমিজী শরিফ ৫. নাসায়ী শরীফ ৬. ইবনে মাজাহ শরীফ।কিন্তু মুসলিম বিশ্ব ষষ্ঠ নম্বরের হাদীস গ্রন্থ কোন খানা হবে এ নিয়ে বেশ মতভেদ আছে। বিশিষ্ট আলেমগণের অনেকেই ইবনে মাজাহর স্থলে ‘মোআত্তা ইমাম মালেক’ কে আবার কেউ কেউ ‘সুনানে দারেমীকে’ ই সেয়াহ সেত্তার শামীল করেন।

সহীহাইনঃ হাদীস শাস্ত্রে বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের স্থান সর্ব উচ্চে। তাই বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফকে একত্রে ‘সহীহাইন’ বলে।

সুনানে আরবাঃ সেয়াহ সেত্তার অন্তর্গত অপর চারখানি হাদীস গ্রন্থ (আবু দাউদ,তিরমিজী,নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)কে এক সঙ্গে ‘সুনানে আরবা’ বলে।

মোত্তাফাকুন আলাইহিঃ যদি কোন হাদীস একই সাহাবীর নিকট হত ইমাম বোখারী ও মুসলিম উভয় গ্রহণ করে থাকেন তবে সেই হাদীসকে ‘মোত্তাফাকুন আলাইহি’ বলে।

হাদীসের কিতাবের বিভাগ

জামেঃ হাদীসকে বিষয় বস্তু অনুসারে সাজানো হয়েছে এবং সমস্ত প্রধান প্রধানগুলো সন্নিবেশিত যে হাদীস গ্রন্থ তাকে ‘জামে’ বলে।যেমন-‘জামে’ সহীহ বোখারী।

সুনানঃ যে হাদীস গ্রন্থে হাদীসকে বিষয়বস্তু অনুসারে সাজানো হয়েছে সেখানে কেবলমাত্র তাহারাত,নামায,রোযা,প্রভৃতি আহকামের হাদীসসমূহ সংগ্রহের দিকেই বেশী নজর দেয়া হয়েছে তাকে ‘সুনান’ বলে।যেমন-সুনানে আবু দাউদ।

মুসনাদঃ হাদীসসমূহকে সাহাবীদের নামানুসারে সাজানো হয়েছে এবং এক একজন সাহাবী বর্ণিত হাদীসসমূহকে একটি মাত্র হাদীস গ্রন্থে স্থান দেয়া হয়েছে-এমন হাদীসগ্রন্থকে ‘মুসনাদ’ বলে। যেমন-মুসনাদ ইবনে আহম্মদ।

মোয়াজামঃ মোয়াজাম বলে সেই হাদীস গ্রন্থকেই যাতে হাদীসসমূহ শায়খ ও উস্তাদদের নামানুসারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যেমন-মোয়াজাম ইবনে কানেয়।

রেসালাহঃ মাত্র একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই যে হাদীসগ্রন্থ রচিত হয়েছে তাকে ‘রেসালাহ বলে’। যেমন-ইবনে খোজাইমা।এ হাদীস গ্রন্থে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কিত হাদীস একত্রিত করা হয়েছে।

হাদীসের কিতাবের স্তর

হাদীসের কিতাবসমূহকে মোটামুটি পাচভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা’ তে শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী(রঃ) হাদীসের কিতাবসমূহকে পাঁচভাগে ভাগ করেছেন।

দ্বিতীয় স্তরঃ ‘নাসায়ী শরীফ’,’আবু দাউদ শরীফ’,’তিরমিজী শরীফ’এ স্তরের কিতাব। অবশ্য ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ’ কে এ স্তরে শামিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন- সুনানে দারেমী,সুনানে ইবনে মাজাহ এবং শাহ ওলীউল্লাহ দেহলবী(রঃ)। এ কিতাবগুলি প্রথম স্তরের কাছাকাছি। এতে সহীহ ও হাসান হাদীসই রয়েছে। জয়ীফ হাদীসের পরিমাণ খুবই নগণ্য। মূলত সকল মাজহাবের ফকীহগণ এ দুস্তরের হাদীসের ওপরই নির্ভরশীল

তৃতীয় স্তরঃ মুসনাদে আবু ইয়ালা,মোসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, মোসান্নাফে আবু বকর ইবনে আবু শাইবাহ,মুসনাদে আবদ ইবনে হোমাইদ,মুসনাদে তায়ালাছী এবং বায়হাকী,তাহাবী ও তাবরানীর কিতাবসমূহ এ স্তরের অন্তর্ভূক্ত।

এ স্তরের কিতাবসমূহে সহীহ,হাসান,জয়ীফ,শাজ্জ,মোনকার ইত্যাদি সকল প্রকার হাদীস রয়েছে। এ জন্য পন্ডিতদের বাছাই ব্যতীত এ সকল কিতাবের হাদীস গ্রহণ করা যাবে না।

চতুর্থ স্তরঃ ইবনে হিব্বানের ‘কিতাবুল জুয়াফা”, ইবনে আসীরের কামেল, এবং আবু নোয়াইম,ইবনে আসাকির,জাওজাকানী,খাতাবী বাগদাদী, ইবনে নাজ্জার ও ফেরদৌস দায়লামীর কিতাবসমূহ এ স্তরের কিতাব। মুসনাদে খাওয়ারেজমীও এ স্তরের যোগ্য। এ স্তরের কিতাবস্মূহে সাধারণত জয়ীফ ও গ্রহণে অযোগ্য হাদীসই রয়েছে।

পঞ্চম স্তরঃ উপরিউক্ত স্তরে যে সকল কিতাবের স্থান হয়নি সে সকল কিতাবই এ স্তরের কিতাব।

খবরঃ হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও বলা হয়। কিন্তু পার্থক্য এই যে খবর শব্দটি হাদীস অপেক্ষা ব্যাপক অর্থবোধক। যুগপৎভাবে হাদিস ও ইতিহাস উভয়কেই বুঝায়।

সুন্নাতঃ সফীউদ্দিন আল হাম্বলি লিখেছেন-সুন্নাত বলতে বুঝায় কোরআন ছাড়া রাসূলের সব কথা,কাজ ও সমর্থন।

তবুও আমরা হাদীস ও সুন্নাতের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখতে পাই- সূন্নাত শব্দটি সম্পূর্ণরুপে ও সর্বতোভাবে হাদীস শব্দের সমান নয়। কেননা ‘সূন্নাত’ হলো রাসূলের (সাঃ) বাস্তব কর্মনীতি, আর ‘হাদীস’ বলতে রাসূলের কাজ ছাড়াও কথা ও সমর্থন বুঝায়।

হাদীসের শ্রেণী বিভাগ

হাদীস শাস্ত্রের পন্ডিতগণ হাদীসকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন- ১। কাওলী ২। ফে’লী ৩। তাকরীরি।

কাওলীঃ আদেশ,নিষেধ অথবা অন্যান্য যত প্রকার মৌখিক বর্ণনা আছে তাকে ‘হাদীসে কাওলী’ বলে।

উদাহরণঃ হযরত আনাস(রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে,তিনি বলেছেন হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন-ফাসেক ব্যাক্তির প্রশংসা ও স্তুতি করা হলে আল্লাহর আরশ কেপে ওঠে।(বায়হাকী)

এই হাদীসটি রাসূল (সাঃ)-র একটি বিশেষ কথার উল্লেখ থাকার কারণে এটা কাওলী হাদীস।

ফে’লীঃ কাজ-কর্ম,আচার-ব্যবহার,উঠা-বসা,লেন-দেন সম্পর্কীয় কথাগুলোকে ‘হাদীসে ফে’লী’ বলে।

উদাহরণঃ হযরত আবু মুসা(রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে,তিনি বলেছেন আমি রাসূলে করীম(সাঃ) কে মোরগের গোশর খেতে দেখেছি।(বোখারী ও মূসলিম)

এই হাদীসটিতে রাসূলের(সাঃ) র একটি কাজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে এই জন্য এটি ‘হাদীসে ফে’লী’।

তাকরীরিঃ অনুমোদন বাঃ সমর্থন জ্ঞাপন সূচক হাদীস।দেখা গেছে অনেক সময় সাহাবীগণ অনেক কাজ করেছেন,যে কাজের ব্যাপারে রাসূল(সাঃ) সমর্থন দিয়েছেন অথবা মৌনতার মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছেন,এই ধরনের হাদীসকে ‘তাকরীরী হাদীস’ বলে।

হাদীসের দ্বিতীয় প্রকার শ্রেণী বিভাগ

বর্ণনাকারীদের (রাবী) সিলসিলা অনুযায়ী হাদীসকে তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ

ক। মারফু খ। মওকুফ গ। মাকতু

মারফুঃ যে হাদীসের সনদ বাঃ সূত্র নবী করীম(সাঃ) পর্যন্ত পৌছেছে তাকে ‘মারফু হাদীস’ বলে। অর্থাৎ যে সূত্রের মাধ্যমে স্বয়ং রাসূলের কোন কথা,কোন কাজ করার বিবরণ কিংবা কোন বিষয়ের অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে,যে সনদের ধারাবাহিকতা রাসূল করীম(সাঃ) থেকে হাদীস গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত সুরক্ষিত হয়েছে এবং মাঝখান থেকে একজন বর্ণনাকারীও বাদ পড়েনি তা ‘হাদীসে মারফু’ নামে পরিচিত।

মওকুফঃ যদি কোন সাহাবীর সনদ রাসূল(সাঃ) পর্যন্ত না পৌছে,সাহাবী পর্যন্ত গিয়েই স্থগিত হয়-অর্থাৎ যা স্বয়ং সাহাবীর হাদীস বলে সাব্যস্ত হয় তাকে ‘হাদীসে মওকুফ’ বলে।

ইমাম নববী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন

‘যাতে কোন সাহাবীর কথা কাজ কিংবা অনুরূপ কিছু বর্ণিত হয়-তা পর পর মিলিত বর্ণনাকারীদের দ্বারা বর্ণিত হোক কিংবা মাঝখান কোন বর্ণনা কারীর অনুপস্থিতি ঘটুক তা ‘মওকুফ হাদীস’।

মাকতুঃ যে হাদীসে রাবীদের ধারাবাহিকতা কোন তাবেয়ী পর্যন্ত পৌছেছে অর্থাৎ তাবেয়ীর হাদীস বলেই প্রমাণিত হয়েছে তাকে ‘হাদীসে মাকতু’ বলে।

হাদীসের তৃতীয় প্রকার শ্রেণিবিভাগ

রাবীদের বাদ পড়ার দিক থেকে হাদীস দু’প্রকার যথাঃ ১.মোত্তাছিল ২. গায়রে মোত্তাছিল।

মোত্তাসিলঃ যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষিত হয়েছে,কোন রাবী বাদ বাঃ উহ্য থাকেনি তাকে মোত্তাসিল বলে।

গায়রে মোত্তাসিলঃ সূত্র অসংলগ্ন অর্থাৎ যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি,কোন না কোন স্থানের রাবী বাদ পড়েছে বাঃ উহ্য রয়েছে এ ধরনের হাদীসকে ‘গায়রে মোত্তাসিল’ বলে।

হাদীসে গায়রে মোত্তাসিল আবার কয়েক প্রকারঃ

ক। মু’আল্লাক

খ। মুরসাল

গ। মুনতাকা

ঘ। মুদাল্লাস

ঙ। মো’দাল

মু’আল্লাকঃ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে যদি প্রথম অংশেই রাবী বাদ পড়ে যায় তবে তাকে ‘মু’আল্লাক হাদীস’ বলে।

মুরসালঃ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে যদি সনদের শেষাংসের রাবীর নাম বাদ পড়ে তবে তাকে ‘মুরসাল’ বলে।

মুনতাকাঃ অসংলগ্ন সূত্রের অর্থাৎ বর্ণনার সময় রাবী বাদ পড়েছে এমন যে কোন হাদীসকে ‘মুনতাকা’ বলা যায়। ইনতাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ ছিন্ন হয়া। অতএব প্রত্যেক ছিন্ন সূত্রের হাদীসকে ‘মুনতাকা’ বলা যেতে পারে।

মো’দালঃ হাদীস বর্ণনার সময় যদি সনদ থেকে দুই বাঃ ততোধিক রাবী বাদ পড়ে যায় তবে তাকে মো’দাল বলে।

মুদাল্লাসঃ যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শায়খের নাম না করে তার ওপরস্থ শায়খের নামে এরূপভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে মনে হয় তিনি নিজেই তা উপরিউক্ত শায়খের নিকট থেকে শুনেছেন অথচ তিনি নিজে তা তার নিকট থেকে শুনেননি (বরং তা তার প্রকৃত উস্তাদের নিকট শুনেছেন) সে হাদীসকে মুদাল্লাসা বলে এবং এইরূপ করাকে ‘তাদলীস’ বলে। আর যিনি এইরূপ করেছেন তাকে ‘মুদাল্লেস’ বলে। মুদাল্লেসের হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়- যে পর্যন্ত না তিনি একমাত্র ছেকাহ রাবী হতে তাদলীছ করেন বলে সাব্যস্ত হন অথবা তিনি তা আপন শায়খের নিকট শুনেছেন বলে পরিষ্কারভাবে বলে দেন।

 

বর্ণনার দুর্বলতার জন্য হাদীসের প্রকারভেদ

এ ধরনের হাদীস আবার কয়েক প্রকার-

১. মুজতারাব ২. মুদরাজ ৩. মাকলুব ৪. শাহ’জ ৫. মুনকার ৬. মুআল্লাল।

মুজতারাবঃ যদি কোন রাবী হাদীস বর্ণনার সময় সনদ ওলট পালট করে ফেলেন—– যেমন আবু হুরায়রার স্থানে আবু যুবাইর বললেন বাঃ এক স্থানের শব্দ অন্য স্থানে লাগালেন অথবা একজনের নিকট একটি হাদীস একরকম বর্ণনা করে অন্য লোকের নিকট ঐ হাদীসই আবার আরেক রকম বর্ণনা করলেন এই ধরনের হাদীসকে ‘মুজতারাব’ বলে। এটা গ্রহণযোগ্য হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত না এর সঠিকতা প্রমাণিত হয়।

মুদরাজঃ যদি কোন রাবী হাদীস বর্ণনা করার সময় নিজের কথা অথবা অন্য কারো কথা শামিল করে দেয় তার সেই হাদীসকে ‘মুদরাজ’ বলে।আর এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বা শামিল করা বলে। যদি ঐ কথা হাদীসের কোন শব্দকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় তা’হলে তা জায়েজ,নতুবা হারাম

মাকলুবঃ যদি কোন রাবী হাদীস বর্ণনার সময় এক মতনের সনদকে অন্য মতনে জুড়ে বর্ণনা করেন তবে তাকে ‘মাকলুব” বলে।এরূপ কোন ঘটনা ঘটলে ঐ রাবীর স্মরণ শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পায়।এ প্রকার রাবীর বর্ণনাকৃত হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যাচাই বাছাই করার পর গ্রহণ করা যেতে পারে।

মাহফুজ ও শা’জঃ কোন সেকাহ রাবীর হাদিস অপর কোন সেকাহ-রাবী বা রাবী গণের হাদীসের বিরোধী হলে,যে হাদীসের রাবীর ‘জবত’ গুণ অধিক বা অপর কোন সুত্র দ্বারা যার হাদীসের সমর্থন পাওয়া যায় অথবা যার হাদীসের শ্রেষ্ঠত্ব অপর কোন কারণে প্রতিপাদিত হয় তার হাদীসটিকে হাদীসে মাহফুজ এবং অপর রাবীর হাদীসটিকে হাদীসে শা’জ বলে এবং এরূপ হওয়াকে ‘শুজুজ’ বলে। ‘শুজুজ’ হাদীসের পক্ষে একটি মারাত্মক দোষ। শা’জ হাদীস সহীহ রূপে গণ্য নহে।

মুনকারঃ জবত গুণ সম্পন্ন নয় এরূপ কোন ব্যক্তি এমন কোন হাদীস বর্ণনা করলো যা অন্য কারো নিকট থেকে শোনা যায়নি এরূপ হাদীসকে ‘মুনকার’ হাদীস বলে।যে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়েছে অথবা কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত রয়েছে এরূপ ব্যক্তির বর্ণিত হাদীসকে ‘মাতরুক’ বা পরিত্যক্ত হাদীস বলে।

মু-আল্লালঃ যে হাদীসের ভেত্র অত্যন্ত সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকে যা হাদীসের সাধারণ পন্ডিতগণ ধরতে পারেনা,একমাত্র সুনিপুন শাস্ত্র বিশারদ ব্যতিরেকে। এই প্রকার হাদীসকে ‘মু-আল্লাল’ বলে। এ এরূপ ত্রুটিকে ‘ইল্লত’ বলে। ‘ইল্লত’ হাদীসের পক্ষে মারাত্মক দোষ, এমনকি ‘ইল্লত’ যুক্ত হাদীস সহী হতে পারে না।

 

রাবীদের যোগ্যতা অনুসারে হাদীসের শ্রেণীবিভাগ

রাবীদের যোগ্যতা অনুসারে হাদীস তিন প্রকার-

১. সহীহ ২. হাসান ৩.জয়ীফ

সহীহঃ যে মুত্তাসিল সনদের রাবীগণ প্রত্যেকেই উত্তম শ্রেণীর আদিল ও জাবিতরূপে পরিচিত অর্থাৎ সেকাহ হওয়ার শর্তাবলী তাদের মধ্যে পূর্ণরূপে বিরাজমান,মূল হাদীসটি সুক্ষ্ম দোষ ত্রুটি অথবা শা’জ বা দল ছাড়া হতে মুক্ত এরূপ হাদীসকে ‘সহীহ হাদীস’ বলে। অন্যভাবে বলা যায় যে হাদীসের বর্ণনা সূত্র ধারাবাহিক রয়েছে,সনদের প্রত্যেক স্তরের বর্ণনাকারীর নাম সঠিকরূপে উল্লেখিত হয়েছে,বর্ণনাকারীগণ সর্বোতভাবে বিশ্বস্ত সেকাহ যাদের স্মরণ শক্তি অত্যন্ত প্রখর এবং যাদের সংখ্যা কোন স্তরেই মাত্র একজন হয়নি, এরূপ হাদীসকে হাদীসে সহীহ বলে।

সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম নববী বলেছেন- “যে হাদীসের সনদ নির্ভরযোগ্য ও সঠিক রূপে সংরক্ষণকারী বর্ণনা কারকদের সংযোজনে পরম্পরাপূর্ণ ও যাতে বিরল ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকারী একজনও নেই,তাই ‘হাদীসে সহীহ’।

হাসানঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীর মধ্যে সকল গুণ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি স্মরণ শক্তির কিছুটা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়, তবে সেই হাদীসকে ‘হাদীসে হাসান’ বলে।

জয়ীফঃ উপরিউক্ত হাদীসে সহীহ ও হাদীসে হাসান বর্ণিত গুণগুলি যদি সনদ বর্ণনাকারী রাবীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তবে তাকে ‘হাদীসে জয়ীফ’ বলে।

[এখানে ভুল বুঝার অবকাশ আছে,এ জন্য তা থেকে মুক্ত করার মানসে হাদীসের ব্যাখ্যা মেশকাত শরীফ থেকে দেয়া হলো-রাবীর ‘জোফ’ বা দুর্বলতার কারণেই হাদীসটিকে জয়ীফ বলা হয়,অন্যথায় (নাউজুবিল্লাহ) রাসূলের কোন কথা জয়ীফ নয়।জয়ীফ হাদীসের জো’ফ কম ও বেশি হতে পারে।খুব কম হলে তা হাসানে নিকটবর্তী থাকে।আর বেশী হলে তা একেবারে মাওজুতে পরিণত হতে পারে। প্রথম পর্যায়ের জইফ হাদীস আমলের ফজিলত বা আইনের উপকারিতায় ব্যবহার করা যেতে পারে,আইন প্রণয়নে নয়।]

বর্ণনাকারীদের সংখ্যার দিক দিয়ে হাদীসের বিভাগ

হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সকল ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এক রকম হয়নি।কখনো কম কখনো বা বেশী হয়েছে।এ জন্য এর ভিত্তিতে শ্রেণী বিভাগ করা হয়েছে।

মুতাওয়াতিরঃ যে হাদীসের সনদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এত অধিক যে,তাদের সম্পর্কে মিথ্যা হাদীস রচনার অভিযোগ আনা অসম্ভব বলে মনে হয়। এই ধরনে হাদীসকে ‘হাদীসে মুতাওয়াতির’ বলে। মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে-‘যে কোন সহীহ হাদীসকে যুগে যুগে এত অধিক পরিমাণ লোকেরা বর্ণনা করছেন যে,একটি মিথ্যা কথার পক্ষে এত সংখ্যক লোক দলবদ্ধ হওয়াকে মানব বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে,আবার সকলে এক অঞ্চলের লোক নন,বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভিন্ন গোত্রের লোক। পরস্পরের মধ্যে তেমন যোগাযোগের কোন ব্যবস্থাই কোন কালে হয়নি। আবার রাবীগণের সংখ্যা সকল যুগে একই প্রকার রয়ে গেছে,কোন যুগে কমে এমন দাড়ায়নি যে সংখ্যাগুলি একত্র হওয়াকে মানব বুদ্ধি অসম্ভব ও অস্বাভাবিক মনে করে না। আর তারা যে কথাটি সংবাদ স্বরূপ পৌছে,তা দৃষ্ট ও বাস্তব অনুভূতি পক্ষান্তরে তা কোন ধারণামূলক বস্তু ও সম্ভ াবনামূলক নয়।এমন হাদীসকে ‘খবরে মোতাওয়াতির’ বলে।

খবরে মোতাওয়াতির আবার দু’প্রকার ১.লফজি ও ২.মানবি।

লফজিঃ মোতাওয়াতির লফজি ঐ হাদীসকে বলে যার শব্দগুলিও যুগে যুগে একই প্রকারের রাবীগণ কর্তৃক আবৃত্তি হয়ে আসছে। যেমন রাসূলুল্লাহ(সঃ) এর বাণীটি “সাতারাওনা রাব্বুহুম” অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমরা তোমদের প্রভূকে দেখবে।

মা’নবিঃ মোতাওয়াতির মা’নবি ঐ সমস্ত হাদীসকে বলে।যে হাদিসে কোন একটি ঘটনাকে বহুলোক বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন,কিন্তু এ ধরনের বিভিন্নতা সত্ত্বেও সকলকে একটি জায়গায় একমত হতে দেখা যায়।যেমন- কেঁউ বলেছেন,হাতেম তায়ী একশত উট দান করেছেন,কেহ বলেন আশিটি উট দান করেছেন,কেঊ বলেন নব্বই,কেঁউ বলেন সত্তরটি।এই ভাবে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। অতএব সংখ্যার দিকে তাকালে এই হাদীসটি খবরে মোতাওয়াতির হতে পারে না কিন্তু একটি কথায় সবাইকে একমত দেখা যাচ্ছে,সেটা হচ্ছে হাতেম তায়ী দানশীল ছিলেন।তাই এ হাদীসকে ‘মোতাওয়াতির মা’নবি’ বলা হয়েছে।

খবরে আহাদ

এ ধরনের হাদিস আবার তিন প্রকার ১.গরীব ২ .আজিজ ৩.মশহুর।

গরীবঃ কোন সহীহ হাদীসের যদি বর্ণনাকারী একজন হন তবে তাকে ‘গরীব’ হাদিস বলে।

আজিজঃ কোন সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী যদি দু’জন হন বা তার থেকে কম না হন তা’হলে ঐ প্রকার হাদীসকে ‘হাদীসে আজিজ’ বলে।

মশহুরঃযে হাদীসের বর্ণনাকারী যদি তিনজন হন বা তার থেকে কম না হন তা’হলে ঐ প্রকার হাদীসকে ‘হাদীসে মশহুর” বলে।

এছাড়াও আরো তিন প্রকার হাদীস আছে,যথা- ১.মাওজু ২ .মাতরুক ৩ .মোবহাম

মাওজুঃ যে হাদীসের রাবী জীবনের কোন সময় রাসূলুল্লাহর(সঃ) নামে ইচ্ছে করে কোন মিথ্যা কথা রচনা করেছেন বলে প্রমাণ আছে-তার হাদীসকে ‘হাদীসে মাওজু’ বলে। এধরনের কোন ব্যক্তির হাদীসই কখনো গ্রহণযোগ্য নয়-যদি সে অতঃপর খালেস তওবাও করে।

মাতরুকঃ যে হাদীসের রাবী হাদীসের ব্যাপারে নয় বরং সাধারণ কাজকারবারে মিথ্যা কথা বলে খ্যাত হয়েছেন-তার হাদীসকে হাদীসে মাতরুক বলে।এ ধরনের ব্যক্তির হাদীসও পরিত্যজ্য।অবশ্য পরে যদি তিনি সত্যিকার অর্থে তওবা করেন এবং মিথ্যা পরিত্যাগ ও সত্য গ্রহণ করেন তা হলে তার পরবর্তী কালের হাদীস গ্রহণ করা যেতে পারে।

মো’বহামঃ অপরিচিত রাবী অর্থাৎ যার স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়নি,যাতে তার দোষগুণ বিচার করা যেতে পারে। – তার হাদীসকে ‘হাদীসে মোবহাম’ বলে।

এধরনের ব্যক্তি সাহাবী না হলে তার হাদীস গ্রহণ করা যাবে না।

হাদীসে কুদসী

হাদীসের ভেতর সবচেয়ে গুরুত্বের দাবীদার এই হাদিসে কুদসী। এ হাদীসের মূল বক্তব্য সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত।কুদসী পদটি আরবী ‘কুদুস’ থেকে আগত,যার অরত্থ পবিত্রতা,মহানত্ম।

সংজ্ঞাঃ যে হাদীসের মূল কথা সরাসরি আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে এসেছে সেই হাদীসকেই ‘হাদীসে কুদসী’ বলে। আল্লাহ তা’য়ালা তার নবীকে ‘ইলহাম’ কিংবা স্বপ্ন যোগে এই মূল কথাগুলি জানিয়ে দিয়েছেন।        

প্রখ্যাত হাদীস ব্যাখ্যাতা মুল্লা আলী আল-কারী ‘হাদীসে কুদসী’র সংজ্ঞা দান প্রসংগে বলেছেন-‘হাদীসে কুদসী’ সে সব হাদীস যা শ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল পরম নির্ভরযোগ্য হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) আল্লাহর নিকট থেকে বর্ণনা করেন কখনো জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে জেনে কখনো সরাসরি অহী কিংবা ইলহাম বা স্বপ্ন যোগে লাভ করেন,যে কোন প্রকারের ভাষার সাহায্যে এটা প্রকাশ করার দায়িত্ব রাসূলের উপর অর্পিত হয়ে থাকে।“(হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ৩৩)

এ সম্মন্ধে আল্লামা বাকী তার ‘কুল্লিয়াত’ গ্রন্থে লিখেছেন- ‘কোরআনের শব্দ,ভাষা,অর্থ,ভাব ও কথা সবই আল্লাহর নিকট থেকে সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ; আর ‘হাদীসে কুদসীর’র শব্দ ও ভাষা রাসূলের; কিন্তু উহার অর্থ,ভাব ও কথা,আল্লাহর নিকট হতে ইলহাম কিংবা স্বপ্ন যোগ প্রাপ্ত।“

এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারা গেল যে হাদিসে কুদসী ও কোরআনের মধ্যে পার্থক্য কি?? তবুও কিছু অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে,ছিকের সাহায্য নিলে মনে হয় আমাদের জন্যে বুঝতে সুবিধা হবে।

কোরআন ও হাদীসে কুদসীর পার্থক্য

কোরআন হাদীসে কুদসী
১। কোরআন মজীদ জীবরাইল(আঃ) এর ছাড়া নাযিল হয়নি এবং এর শব্দ ভাষা নিশ্চিত ভাবে ‘লওহে মাহফুজ’ থেকে অবতির্ণ। ১।হাদীসে কুদসীর মূল বক্তব্য মাধ্যম আল্লাহর নিকট থেকে ইলহাম কিংবা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত।কিন্তু ভাষা রাসূল(সঃ) এর নিজস্ব।
২।নামাজে কোরআন মাজীদ’ই শুধু পাঠ করা হয়। কোরআন ছাড়া নামাজ সহী হয় না। ২। নামাজে হাদীসে কুদসী পাঠ করা যায় না অর্থাৎ হাদীসে কুদসী পাঠে নামাজ হয় না।
৩।অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা হারাম। ৩।হাদঈসে কুদসী অপবিত্র ব্যক্তি,এমন কি হায়েয নিফাস সম্পন্না নারীও স্পর্শ করতে পারে।
৪।কোরআন মাজীদ মু’জিজা ৪। কিন্তু হাদিসে কুদসী মু’জিজা নয়।
৫। কোরআন অমান্য করলে কাফের হতে হয়। ৫।হাদিসে কুদসী অমান্য করলে কাফের হতে হয় না।
৬।কোরআন নাযিল হওইয়ার জন্যে আল্লাহ ও রাসূলের মাঝখানে জীবরাঈলের মধ্যস্থা অপরিহার্য। ৬। হাদিসে কুদসির জন্য জীবরাঈলের মধ্যস্থা জরুরী নয়।

এতক্ষণে আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে হাদিস প্রধানতঃ দু’ভাগে বিভক্ত-

১. হাদিসে নব্বী-রাসূলে করীম(সাঃ)-এর হাদিস।

২. হাদিসে ইলাহী- আল্লাহ-হাদিস,আর এই হাদিসকেই হাদিসে কুদসী বলে।

শায়খ মুহাম্মদ আল-ফারুকী হাদিসকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন।তিনি লিখেছেন-

“হাদীসে কুদসী তাই,যা নবী করীম(সঃ) তার আল্লাহ তায়ালার তরফ হতে বর্ণনা করেন।আর যা সেরূপ করেন না, তা হাদিসে নব্বী।’’(হাদিস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ ৩৬ )

ওহী

‘ওহী’ অর্থ ইশারা করা,কিছু লিখে পাঠানো,কোন কথা সহ লোক পাঠানো,গোপনে অপরের সাথে কথা বলা,অপরের অজ্ঞাতসারে কোন লোককে কিছু জানিয়ে দেয়া।

যারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কেন্দ্রে হাদিস সংকলন ও গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ করেছেন,তারা হচ্ছেন-মক্কা শরীফের ইবনে জুরাইজ(১৫০ হি.)- মদীনায়, ইবনে ইসহাক (১৫১ হি.), ইমাম মালেক (১৭৯ হি.), বসরায়- রুবাই ইবনে সুবাইহ (১৬০ হি.),সায়ীদ ইবনে আবু আরুবা(১৫৬ হি.),হাম্মাদ ইবনে সালমা(১৭৬ হি.), কুফায় – সুফিয়ান আস সওরী(১৬১ হি.), সিরিয়ায়- ইমাম আওজায়ী(১৫৬ হি.) এবং খোরাসানে- জরীর ইবনে আবদুল হামীদ(১৮৮ হি.), ও আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক(১৮১ হি.)।

হযরত উমর ইবনে আবদুল আজীজ ১০১ হিজরির ২৫ রজব ইন্তেকাল করেন। তিনি মাত্র হাদিস দু’বছর পাঁচ মাস খলিফা ছিলেন। ইমাম শা’বী,ইমাম জুহুরী,ইমাম মকহুল দেমাকশী ও কাজী আবু বকর ইবনে হাজজের সংকলিত গ্রন্থাবলী তার খিলাফত কালের অমর অবদান।

‘কিতাবুল আসার’ নামক গ্রন্থখানি মুসলিম জাতির নিকট বর্তমানে রক্ষিত সব থেকে প্রাচীন গ্রন্থ। এটা আবু হানিফা(রাঃ) হযরত আবদুলাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ) এর সময় প্রতিষ্ঠিত।

হাফেজ সুয়ুতী ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে লিখেছেন-“ ইমাম আবু হানিফার বিশেষ কীর্তি যাতে তিনি একক তা এই যে,তিনিই সর্বপ্রথম ইলমে শরীয়তকে সুসংবদ্ধ করেছেন এবং একে অধ্যায় হিসেবে সংকলিত করেছেন। কিন্তু এইরূপ গ্রন্থ প্রণয়নের ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফাকে সময়ের দিক দিয়ে কেউই অতিক্রম করে যেতে পারেননি।’’

এরপর ইমাম মালেক “আল মুয়াত্তা” হাদিস গ্রন্থখানি লেখেন।

মুহাম্মদ আবু জাহু নামক এযুগের একজন মিসরীয় লেখক লিখেছেন-“আব্বাসী খলীফা আবু জাফর আল মানসুর ইমাম মালেককে ডেকে বললেন-তিনি যেন তার নিজের নিকট প্রমাণিত সহীহরূপে সাব্যস্ত হাদিসসমূহ সংকলন করেন ও একখানি গ্রন্থাকারে তা প্রণয়ন করেন এবং সেটাকে যেন তিনি লোকদের ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নির্দিষত করেন।অতঃপর তিনি তার এই গ্রন্থ প্রণয়ন করেন এবং এর নাম নির্দিষ্ট করেন “আল মুয়াত্তা”।

মোটামুটি বলা চলে খলীফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ হাদিস সংকলনের যে জোয়ার তুলে দিয়ে যান তার ফলশ্রুতিতেই পরবর্তীতে আমরা হাদীসগুলো গ্রন্থাকারে পেয়েছি।

তৃতীয় হিজরী শতকে পাচটি শহরে ইলমে হাদিসের অপূর্ব উৎকর্ষ সাধিত হয়। ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ সম্মন্ধে লিখেছেন,“মক্কা,মদীনা,কুফা,বস্রাও সিরিয়া এ পাচটি শহরে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের পাদপীঠ।এই সব শহর থেকেই নবীর প্রচারিত জ্ঞান,ঈমান,কোরআন ও শরীয়ত সম্পর্কিত ইলম এর ফল্গুধারা উৎসারিত হয়েছে।”

হাদীস সংকলনের চুড়ান্ত পর্যায় হল বনু আব্বাসীয়দের খলীফা আল মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ(২৩২ হি.)। আসলে তিনি সুন্নাতের প্রতি খুবই আকৃষ্ট ছিলেন। এমনকি তিনি হাদীস সংকলন ও শিক্ষা দানের ব্যাপারে এতদূর অগ্রসর হয়েছিলেন যে,সমস্ত মূসলিম জনতা তার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে থাকে। এমন কি এই সময় একটি কথা প্রচলিত হয়ে যায়-

“খলীফা তো মাত্র তিন জন মুরুতাদগণকে দমন ও হত্যা করার ব্যাপারে হযরত আবু বকর,যুলুম অত্যাচার বন্ধ করেন উমর ইবনে আবিদুল আজীজ এবং হাদিস ও সুন্নতের পুনরুজ্জীবনে ও বাতিল পন্থিদের দমন ও ধ্বংস সাধনে আল মুতাওয়াক্কিল।”(হাদিস সংকলনের ইতিহাস ৫২১ পৃঃ)।

অপরদিকে এই শতকেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছয়খানি সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ প্রণেতাদের পাই-১. ইমাম বোখারী ২. ইমাম মুসলিম ৩. ইমাম নাসায়ী ৪. ইমাম তিরমিযী ৫. ইমাম আবু দাউদ এবং ৬. ইমাম ইবনে মাজাহ।

হাদীস প্রচার ও বর্ণনানুযায়ী সাহাবীদের বিভাগ

হাদীস সংগ্রহ,সংরক্ষণ ও শিক্ষাদানের ওপর নির্ভর করে মোহাদ্দেসগণ সাহাবাদের চার ভাগে বিভক্ত করেছেন- মুকছিরীন,মুতাওচ্ছেতীন,মুকিল্লীন ও আকাল্লীন।

মুকছিরীনঃযে সমস্ত সাহাবা এক হাজার বা ততোধিক হাদীস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে বলেন মুখছিরীন।

মুতাওচ্ছেতীনঃযে সমস্ত সাহাবা পাচপ্সহ বা ততোধিক তবে তা এক হাজারের কম হাদিস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে মুতাওয়াচ্ছেতীন বলে।

মুকিল্লীনঃ যে সমস্ত সাহাবা চলিইশ থেকে পাচশ হাদীস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে বলে মুকিল্লীন।

আকাল্লীনঃ যে সমস্ত সাহাবা চলিইশের কম হাদীস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে বলে আকাল্লীন।

নিম্নে মুকছিরীন,মুতাওয়াচ্ছেতীন ও মুকিল্লীন সাহাবীদের নাম,মৃত্যু সন(হিজরী) ও তাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা দেয়া হলো।আকাল্লীনদের নামের তালিকা অনেক লম্বা বলে তাদের নাম দেয়া হলো না।

মুকছিরীন

নাম মৃত্যু সন বর্ণিত হাদীস

১।হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) (৫৭ হি) ৫৩৬৪

২।হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) (৫৭ হি) ২২১০

৩।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) (৬৮ হি) ১৬৬০

৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) (৭৩ হি) ১৬৩০

৫।হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) (৭৪ হি) ১৫৪০

৬। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ (৯১ হি) ১২৮১

৭। হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) (৭৪ হি) ১১৭০

মুতাওয়াচ্ছেতীন

১।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাছউদ (রাঃ) (৩২ হি) ৮৪৮

২।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) (৬৩ হি) ৭০০

৩।হযরত আলী মুরতাজা (রাঃ) (৪০ হি) ৫৮৬

৪।হযরত উমর ফারুখ (রাঃ) (২৩ হি) ৫৩৯

মুকিল্লীন

১।(উম্মুল ম’মীনীন) হযরত উম্মে ছালমা(রাঃ) (৫৯ হি) ৩৭৮

২।হযরত আবু মূসা আশ’আরী (রাঃ) (৫৪ হি) ৩৬০

৩।হযরত বারা ইবনে আজেব (রাঃ) (৭২ হি) ৩০৫

৪।হযরত আবুজর গিফারী (রাঃ) (৩২ হি) ২৮১

৫।হযরত সা’দ ইবনে আবি ওক্কাস (রাঃ) (৫৫ হি) ২১৫

৬।হযরত সাহল আনসারী (জুন্দব ইবনে কায়স রাঃ) (৯১ হি) ১৮৮

৭।হযরত উবাদা ইবনে সামেত আনসারী(রাঃ) (৩৪ হি) ১৮১

৮।হযরত আবু দ্বারদা (রাঃ) (৩২ হি) ১৭৯

৯।হযরত আবু কাতাদাহ আনসারী (রাঃ) (৫৪ হি) ১৭৫

১০।হযরত মো’আজ ইবনে জাবাল (রাঃ) (১৮ হি) ১৭৫

১১।হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) (২১ হি) ১৬৪

১২।হযরত বোরাইদা ইবনে কা’ব (রাঃ) (৬৩ হি) ১৬৪

১৩।হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) (৫২ হি) ১৫০

১৪।হযরত ওসমান গণী (রাঃ) (৩৫ হি) ১৪৬

১৫।হযরত জাবের ইবনে সামুরাহ (রাঃ) (৭৪ হি) ১৪৬

১৬।হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) (১৩ হি) ১৪২

১৭।হযরত মুগীরাহ ইবনে শো’অবা (৫০ হি) ১৩৬

১৮।হযরত আবু বাকরাহ (রাঃ) (৫২ হি) ১৩০

১৯। হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন( রাঃ) (৫২ হি) ১৩০

২০।হযরত মু’আবীয়া ইবনে আউ সুফিয়ান (রাঃ) (৬০ হি) ১৩০

২১।হযরত ওসামাহ ইবনে জায়েদ (রাঃ) (৫৪ হি) ১২৮

২২।হযরত সাওবান (রাঃ) (৫৪ হি) ১২৪

২৩।হযরত নো’মান ইবনে বশীর (রাঃ) (৬৫ হি) ১২৪

২৪।হযরত সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাঃ) (৫৮ হি) ১২৩

২৫।হযরত আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) (৪০ হি) ১০২

২৬।হযরত জাবীর ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী (রাঃ) (৫১ হি) ১০০

২৭।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) (৮৭ হি) ৯৫

২৮।হযরত জায়িদ ইবনে সাবেত আনসারী (রাঃ) (৪৮ হি) ৯২

২৯।হযরত আবু তালহা (রাঃ) (৩৪ হি) ৯০

৩০।হযরত জায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ) (৬৮ হি) ৯০

৩১।হযরত জায়দ ইবনে খালেদ (রাঃ) (৭৮ হি) ৮১

৩২।হযরত কা’ব ইবনে মালেক (রাঃ) (৫০ হি) ৮০

৩৩।হযরত রাফেয় ইবনে খাদীজ (রাঃ) (৭৪ হি) ৭৮

৩৪।হযরত সালমা ইবনে আকওয়া ((রাঃ) (৭৪ হি) ৭৭

৩৫।হযরত আবু রাফেয় (রাঃ) (৩৫ হি) ৬৮

৩৬।হযরত আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) (৭৩ হি) ৬৭

৩৭।হযরত আদিয় ইবনে হাতেম তায়ী (রাঃ) (৬৮ হি) ৬৬

৩৮।হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবি আওফা (রাঃ) ৬৫

৩৯।হযরত উম্মে হাবীবাহ উম্মুল মো’মেনীন (রাঃ) (৪৪ হি) ৬৫

৪০।হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) (৩৪ হি) ৬৪

৪১।হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) (৩৭ হি) ৬৪

৪২।হযরত হাফসা উম্মুল মো’মেনীন (রাঃ) (৪৫ হি) ৬৪

৪৩।হযরত জোবাইর ইবনে মোতায়েম (রাঃ) (৫৮ হি) ৬০

৪৪।হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওসা (রাঃ) (৬০ হি) ৬০

৪৫।হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা) (৭৪ হি) ৫৬

৪৬।হযরত ওয়াহেলা ইবনে আছকা (রাঃ) (৮৫ হি) ৫৬

৪৭।হযরত ওকবাহ ইবনে আমের (রাঃ) (৬০ হি) ৫৫

৪৮।হযরত ওমর ইবনে ওতবাহ (রাঃ) ৪৮

৪৯।হযরত কা’ব ইবনে আমর ((রাঃ) (৫৫ হি) ৪৭

৫০হযরত ফাজালা ইবনে উবায়েদ আসলামী (রাঃ) (৫৮ হি) ৪৬

৫১।হযরত মাইমুনাহ উম্মুল মো’মেনীণ (রাঃ) (৫১ হি) ৪৬

৫২।হযরত উম্মেহানী (হযরত আলীর ভাগ্নী) (রাঃ) (৫০ হি) ৪৬

৫৩।হযরত আবু জোহাইফা (রাঃ) (৭৪ হি) ৪৫

৫৪।হযরত বেলাল (রাঃ) (১৮ হি) ৪৪

৫৫।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) (৫৭ হি) ৪৩

৫৬।হযরত মিকদাদ ইবনে আহওয়াদ (রাঃ) (৩৩ হি) ৪৩

৫৭।হযরত উম্মে আতীয়াহ আনসারী (রাঃ) ৪১

৫৮।হযরত হাকিম ইবনে হেজাম (রাঃ) (৫৪ হি) ৪০

৫৯।হযরত সালমা ইবনে হানীফ (রাঃ) ৪০

হাদীস বর্ণনার পার্থক্যের কারণ

নবী করীম (সাঃ) যতদিন পর্যন্ত সাহাবীদের মধ্যে জীবিত ছিলেন,ততদিন পর্যন্ত তিনি সাধারণভাবে তাদের সকলকেই দ্বীন-ইসলাম,খোদার কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দানে ব্যপৃত ছিলেন।তখন যেমন রাসূলের নামে কোন মিথ্যা কথা প্রচার করার অবকাশ ছিল না,তেমনি ছিল না রাসূলের কোন কথাকে ‘রাসুলের কথা নয়’ বলে উড়িয়ে দেয়ার বা প্রত্যাখ্যান করার একবিন্দু সুযোগ। তখন মুনাফিকপগণও রাসূলের কোন কথার অপব্যাখ্যা করে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করারও তেমন কোন সুযোগ পেত না। কেননা তেমন কিছু ঘটলেই সাহাবায়ে কেরাম রাসূলের নিকট জিজ্ঞেস করে সমস্ত ব্যাপার পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট করে নিতে পারতেন। ইতিহাসে বিশেষত হাদীস শরীফ সম্পর্কে এর অসংখ্য নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। হযরত উমর ফারুখ(রাঃ) একবার হয়ত হযরত হিশাম ইবনে হাকীমকে সূরা আল ফুরকান নতুন পদ্ধতিতে পড়তে দেখে অত্যন্ত আশ্চর্য বোধ করে এবং তাকে পাকড়াও করে রাসূলের দরবারে নিয়ে আসলেন। অতঃপর নবী করীম(সাঃ) হযরত হিশামের পাঠ শুনে বলেন যে,এই ভাবেও পাঠ করা বিধি সম্মত।ফলে হযরত উমরের মনে সন্দেহ দূর হয়,এ কারণে এ কথা বলা যায় যে,রাসূলে করীম(সাঃ) তার জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরামের পারষ্পরিক সমস্ত মতবৈষোম্যের মীমাংসা দানকারী ছিলেন।কোন বিষোয়ে এক বিন্দু সন্দেহ বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেই রাসূলকে দিয়ে তার অপণোদন করে নেয়া হত।

কিন্তু নবী করীম(সাঃ) ওফাতের পর এই অবস্থার বিরাট রকমের পরিবর্তন ঘটে।একদিকে যেমন ওহীর জ্ঞান লাভের সূত্র ছিন্ন হয়ে যায়,তেমনি অপরদিকে অসংখ্য নওমুসলিম মুর্তাদ হয়ে দ্বীন ইসলাম পরিত্যগ করতে উদ্যত হয়ে। এরূপ অবস্থায় ঘোলা পানিতে স্বার্থ শিকারের উদ্দেশ্যে কিছু সংখ্যক মুনাফিকও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখন তারা যদি রাসূলের নামে মিথ্যা কথা রটাতে চেষ্টা করে থাকে তবে তা কিছু মাত্র বিচিত্র বা বিস্ময়ের কিছু নয়।

কিন্তু প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর(রাঃ) এ সবের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেন। তিনি একদিকে যেমন পূর্ণশক্তি প্রয়োগ করে মুর্তাদ ও যাকাত অস্বীকার কারিদের মস্তক চূর্ণ করে দেন,অপরদিকে ঠিক তেমনি প্রবলভাবে মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাকথা প্রচারের মুখে দুর্জয় বাধার প্রাচির রচনা করেন। তিনি হাদিস বর্ণনার ব্যপারে অত্যন্ত কড়াকড়ি অবলম্বন করেন। হাদিসের বিরাট সম্পদকে বুকে ধরে বিপুল সংখ্যক সাহাবী অতন্দ্রপ্রহরীর মত সজাগ হয়ে বসে থাকেন। কোন হাদীস বর্ণনা করলে তা মুনাফিকদের হাতের ক্রিড়ানক হয়ে পড়তে পারে ও বিকৃত রূপ ধারণ করতে পারে,এই আশংকায় তারা সাধারণভাবে হাদিস বর্ণনা করা প্রায় বন্ধ করে দেন।কারো কারো মনে এই ভয় এতদুর প্রবল হয়ে দেখা দেয় যে,বেশি করে হাদিস বর্ণনা করতে গেলে বর্ণনার ব্যাপারে ভুল হয়ে যেতে পারে কিংবা সাধারণ মুসলমান হাদিস চর্চায় একান্তভাবে মশগুল হয়ে পড়লে তারা খোদার নিজস্ব কালাম কোরআন মজীদের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করতে পারে। এসব কারনে সাধারণভাবে সাহাবায়ে কিরাম হাদীস প্রচার ও বর্ণনা সাময়িকভাবে প্রায় বন্ধ করে রাখেন। শরীয়তের মাসলা মাসায়েলের মীমাংসা কিংবা রাষ্ট্র শাসন ও বিচার-আচার প্রভৃতি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে যখন হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়তো,কেবলমাত্র তখনি তারা পরষ্পরের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন।

এ পর্যায়ে আমরা বিশেষভাবে কয়েকজন সাহাবীর কথা উল্লেখ করতে পারি এবং বিপুল সংখ্যক হাদিস জানা থাকা সত্ত্বেও তাদের অপেক্ষা কৃত কম সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করার কারণও তা থেকে অনুধাবন করতে পারি।

হযরত আবু বকর সিদ্দীক(রাঃ) নবী করীমের (সাঃ) আজীবনের সংগী, হযরত আবু উবাইদাহ, হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন প্রমুখ মহাসম্মানিত সাহাবীদের বিপুল হাদিস জানা থাকা সত্ত্বেও তাদের নিকট হতে খুব কম সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হযরত সায়ীদ ইবনে যায়দ বেহেশতবাসী হওইয়ার সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম,কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি মাত্র দু’টি কিংবা তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।হযরত উবাই ইবনে উম্মারাতা কেবল মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কোন কোন সাহাবী রাসূলের ইন্তেকালের পর খিলাফাতের দায়িত্ব প্লনে এতই মশগুল হয়ে পড়েছিলেন যে,তার পক্ষে হাদিস বর্ণনার মত সুযোগ বা অবসর লাভ করা সম্ভব হয়নি। খোলাফায়ে রাশেদীন চারজন সম্মানিত সাহাবী এবং হযরত তালহা ও হযরত জুবাইর (রাঃ) এর বাস্তব দৃষ্টান্ত।

বহু সংখ্যক সাহাবীর অবস্থা ছিল এর ঠিক বিপরীত। তাদের ছিল বিপুল অবসর। হাদীস বর্ণনায় প্রতিবন্ধক হতে এমন কোন ব্যস্ততাই তাদের ছিল না।ফলে তারা বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করতে সমর্থ হন। যেমন হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)।

কোন কোন সাহাবী নবী করীমের (সাঃ) সংস্পর্শে ও সংগে থাকার অপেক্ষাকৃত বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন।দেশে বিদেশে ঘরে ও সফরে সর্বত্র তার সংগে থাকার কারণে একদিকে যেমন অধিক সংখ্যক হাদিস সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সহজ ছিল তেমনি তার ইন্তেকালের পর ঐ হাদিসকে অপরের নিকট পূর্ন মাত্রায় বর্ণনার সুযোগও তাদের ঘটেছিলো। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ),হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ),হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ()রাঃ,হযরত আনাস ইবনে মালেক(রাঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর(রাঃ) প্রমুখ সাহাবীর নাম এ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য। কিছু সংখ্যক সাহাবী রাসূলে করীমের জীবদ্দশায়ই কিংবা তার ইন্তেকালের অব্যবহিত পরেই ইন্তেকাল করেছেন বলে তাদের জীবনে অপরের নিকট হাদিস বর্ণনা করার কোন সুযোগই ঘটেনি।তাদের থেকে খুব কম সংখ্যক হাদিসই বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলে করীমের(সাঃ) অন্তর্ধানের পর ইসলামী সমাজে নিত্য নব পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তখন মুসলিম জনসাধারণের পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাসূলের (সাঃ) কথা জানা আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। ফলে এই সময়ে জীবিত সাহাবীগণ বেশি সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করতে বাধ্য হয়েছেন।পরবর্তীকালের মুসলিমদের মধ্যে ইলমে হাদীস অর্জন করার প্রবল আগ্রহ জন্মে,তারা সাহাবীদের নিকট নানাভাবে রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস শোনার আবদার পেশ করতেন।এই কারণেও সাহাবীগণ তাদের(রাঃ) নকট সুরক্ষিত ইলমে হাদিস তাদের সামনে প্রকাশ করতে ও তাদেরকে শিক্ষাদান করতে প্রস্তুত হন। এ কারণেও অনেক সাহাবীর নিকট হতে বিপুল সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

খেলাফাতে রাশেদার শেষ পর্যায়ে মুসলিম সমাজে নানাবিধ ফেতনার সৃষ্টি হয়। শীয়া এবং খারেজী দু’ট বাতিল ফিরকা স্থায়ীভাবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।এসময় তারা কিছু কিছু কথা রাসূলের হাদিস হিসাবে চালিয়ে দেতেও চেষ্টা করে। এ কারণে রাসূলের কোন কোন সাহাবী প্রকৃত হাদীস কম বর্ণনা করতে ও হাদীস বর্ণনায় অধিক কড়াকড়ি করতে বাধ্য হন। ঠিক এ কারণেই চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ)-র নিকট থেকে খুব কম সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হতে পেরেছে।

স্মরণ শক্তির পার্থক্য ও হাদিস লিখে রাখা বা না রাখাও হাদিস বর্ণনায় এই সংখ্যা পার্থক্য সৃষ্টির অন্যতম কার্বন। যারা হাদীস বেশি মুখস্ত করে কিংবা লিপিবদ্ধ করে রাখতে পেরেছিলেন-যেমন হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর(রাঃ)-তারা অপর সাহাবীদের অপেক্ষা অধিক হাদিস বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।একই রাসূলের(সঃ) অসংখ্য সাহাবীদের বর্ণিত হাদিসে সংখ্যা পার্থক্য সৃষ্টির মূলে এইসব বিবিধ কার্বন নিহিত রয়েছে।কাজেই ব্যাপারটি যতই বিস্ময়কর হোক নাকেন,অস্বাভাবিক কিছুই নয়,তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।(হাদিস সংকলনের ইতিহাস ৩০১-৩০৫ পৃঃ)

হাদিস বর্ণনার পার্থক্যে কার্বন সম্মন্ধে উপরে যা বর্ণিত হলো,প্যেন্টাকারে বললে আমরা মোটামুটি এভাবে বলতে পারি-

১। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতার কারনে ও মুনাফিকদের দ্বারা হাদিস বিকৃতির আশংকায় অনেক সাহাবা হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করে দেন।

২। বেশি বেশি হাদিস বর্ণনা করতে গেলে বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে এ ভয়ে অনেক সাহাবা হাদীস প্রচার ও বর্ণনা বন্ধ রাখেন।

৩। সাধারণ মুসলমান হাদিস চর্চায় বেশি মশগুল হয়ে পড়লে তারা আল্লাহর কালাম কোরআনের প্রতি গুরুত্ব কম দিতে পারে এ কারণে সাহাব্যে কিরাম সাময়িকভাবে হাদিস সাময়িকভাবে প্রচার ও বর্ণনা বন্ধ রাখেন।

৪।খেলাফতের বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হাদিস প্রচার ও বর্ণনা করা অনেক সাহাবীর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ইসলামের প্রথম চারজন খলিফা, এবং হযরত তালহা(রাঃ), ও হযরত জুবাইর(রাঃ)-এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

৫। অপরদিকে বহু সংখ্যক সাহাবীর ছিল অবসর।তাদের তেমন কোন ব্যস্ততা ছিল না বললেই চলে। এ জন্য তারা প্রচুর সংখ্যক হাদিস আমাদের উপহার দিতে চপেরেছেন।যেমন- হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ),হযরত আয়েশা(রাঃ),হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর(রাঃ) প্রমুখ।

৬।অনেক সাহাবীই রাসূল(সঃ)-এর সংস্পর্শে আসার এবং সংগে থাকার সুযোগ পেয়েছেন বেশি। সর্বদা রাসূল(সঃ)-এর ধারে কাছে থাকার কারণে এ সমস্ত সাহাবী অনেক বেশি হাদিস সংগ্রহ ও বর্ণনা করতে পেরেছেন।যেমন-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ,হযরত আবু হুরায়রা,হযরত আনাস ইবনে মালেক প্রমুখ।

৭।আবার কিছু সংখ্যক সাহাবী রাসূলের(সঃ) ইন্তেকালের পর অল্প দিনের ব্যবধানে ইন্তেকাল করার হাদিস বর্ণনা করার তেমন কোন সুযোগ পাননি, ফলে তাদের থেকে খুব কম হাদীসই পাওয়া গেছে।

৮।নবী (সাঃ)-এর অনুপস্থিতিতে ইসলামী সমাজে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়।ফলে এ নতুন পরিস্থিতির সমাধান কল্পে হাদীস জানা জরুরী হয়ে পড়ে,তখন জীবিত সাহাবীদেরকেই বেশি হাদীস বর্ণনা করতে হয়।

৯।পরবর্তীকালে মুসলমানদের মধ্যে হাদীস সম্মন্ধে জানার প্রবল আগ্রহ দেখা দেয়।তারা সাহাবীদের নিকট থেকে হাদিস জানার আবদার পেশ করতেন।এ কারণেও অনেক সাহাবীর নিকট হতে বিপুল সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

১০।খেলাফতে রাশেদার শেষ পর্যায়ে মুসলিম সমাজে নানাবিধ ফেতনার সৃষ্টি হয়।এ সময় মুনাফিকদের কিছু কিছু কথা রাসূলের হাদীস হিসাবে চালিয়ে দিতেও চেষ্টা করে। এ কারণে কোন কোন সাহাবী প্রকৃত হাদিস কম বর্ণনা করতে ও হাদীস বর্ণনার কড়াকড়ি করতে বাধ্য হন। এ কারণেই হযরত আলী(রাঃ)-এর নিকট হতে খুব কম হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

১১।স্মরণ শক্তির পার্থক্য ও হাদীস লিখে রাখা বা না রাখাও হাদিস বর্ণনার এ সংখ্যা পার্থক্যের সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

বিভিন্ন যুগে হাদীস সমালোচনা

সত্যের মানদন্ডে যাচাই বাচাই করার জন্য বিভিন্ন যুগে হাদীসে সমালোচনা হয়েছে। সমালোচনায় বিভিন্ন যুগে যারা উল্লেখযোগ্য স্থান লাভ করেছেন তাদের নাম নিম্নে দেয়া হলো-

সাহাবীদের পর্যায়ঃ

১।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(মৃ ৬৮ হি)

২।উবাদাহ ইবনে সামেত(মৃ ৩৪ হি)

৩।আনাস ইবনে মালেক(মৃ ৯৩ হি)

তাবেয়ীদের পর্যায়েঃ

১।সায়ীদ ইবনে মুসাইয়্যেব (মৃ ৯৩ হি)

২।আমের ইবনে শা’বী(মৃ ১০৪ হি)

৩।ইবনে সিরিন (মৃ ১১০ হি)

দ্বিতীয় শতকের ব্যক্তিগণ হচ্ছেন

ইমাম শো’বা(মৃ ১৬০ হি),আনাস ইবনে মালেক(মৃ ১৭৯ হি),মা’মার(মৃ ১৫৩ হি),হিশাম আদ দাস্তাওয়ায়ী(মৃ ১৫৪ হি),ইমাম আওজায়ী(মৃ ১৫৩ হি),সুফিয়ান আস সাওরী(মৃ ১৬১ হি),হাম্মাদ ইবনে সালমা(মৃ ১৬৭ হি),লাইস ইবনে সায়াদ(মৃ ১৭৫ হি) ও ইবনুল মাজেশুন(মৃ ২১৩ হি)।

পরবর্তী পর্যায়ে যারা উল্লেখযোগ্য তারা হচ্ছেন

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক(মৃ ১৮১ হি),হুশাইম ইবনে কুশাইর(মৃ ১৮৮ হি),আবু ইসহাক আল ফারুকী(মৃ ১৮৫ হি),আল মায়াফী ইবনে ইমরান আল মুসেলী(মৃ ১৮৫ হি),বিশব ইবনুল মুফাজ্জাল(মৃ ১১৬ হি),ইবনে উয়াইনাহ(মৃ ১৯৩ হি),ইবনে ওহাব(মৃ ১৯৭ হি), ও ওঅফীত ইবনে জাররাহ(মৃ ১৯৭ হি)।

এ সময় দু’ব্যক্তি বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পন্ন ছিলেন-১। ইয়াহিয়া ইবনে সাযিদুল কাতান(মৃ ১৮৯ হি), ও ২। আবদুর রহমান ইবনে মাহদী(মৃ ১৯৮ হি)

এরপর যারা উল্লেখযোগ্য তারা হচ্ছেন-ইয়াজীদ ইবনে হারুন(মৃ ২০৬ হি),আবু দাউদ তায়ালিসী(মৃ ২০৪ হি),আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মান(মৃ ২১১ হি) ও আসেম নবীল ইবনে মাখলাদ(মৃ ২১২ হি)। এরপর যারা কৃতিত্বের দাবী রাখেন তারা হচ্ছেন – হাদীস সমালোচনা বিজ্ঞানের গ্রন্থকারগণ।নিম্নে তাদের উল্লেখ করা হল-

ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ীন(মৃ ২৩৩ হি), আহমদ ইবনে হাম্বল(মৃ ২৪১ হি),মুহাম্মদ ইবনে সায়াদ(মৃ ২৩০ হি),আবু খায়সামা জুবাইর ইবনে হারব(মৃ ২৩৪ হি), আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ নবীল আলী ইবনে মদীনি(মৃ ২৩৫ হি),মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ নুমাইর(মৃ ২৩৪ হি),আবুবকর ইবনে আলী শাহাবা(মৃ ২৩৫ হি), আবদুল্লাহ ইবনে আওর আল কাওইয়ায়ীরি(মৃ ২৩৫ হি),ইসহাক ইবনে রাহওয়ার ইমামে খুরাসান (মৃ ২৩৭ হি), আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আম্মার আর মুসেলী(মৃ ২৪২ হি),আহমদ ইবনে সালেহ হাফেজে মিসর(মৃ ২৪৮ হি),হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আল হাম্মাল(মৃ ২৪৩ হি)

এদের পর ইসহাক আল দাওসাজ(মৃ ৫১ হি),ইমাম দারেমী(মৃ ২৫৫ হি),ইমাম বোখারী(মৃ ২৫৬ হি), হাফেজ আল আজলী,ইমাম আবু জুরয়া(মৃ ২৬৪ হি),আবু হাতেম(মৃ ২৭৭ হি),ইমাম মুসলিম(মৃ ২৬১ হি),আবু দাউদ সিজিস্তানী (মৃ ২৭৫ হি),বাকী ইবন মাখলাদ (মৃ ১৭৬ হি),আবু জুরয়া দেমাশকী (মৃ ২৮১ হি)

এরপর আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল বাগদাদী,ইব্রাহীম ইবনে ইসহাক আল হারবী(মৃ ২৮৫ হি),মুহাম্মদ ইবনে আজ্জাহ (মৃ ২৮৯ হি),হাফেজ কুরতবা আবুবকর ইবনে আবু আসেম(মৃ ২৮৭ হি),আবদুল্লাহ ইবনে আহম্মদ(মৃ ২৯০ হি),সালেহ মাজরা(মৃ ২৯৩ হি),আবুবকর আল বাজ্জার(মৃ ২৯২ হি),মুহাম্মদ ইবনে নসর আল মারওয়ালী(মৃ ২৯৪ হি)।

সাহাবীদের ভারত আগমন

সম্ভবত ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর(রাঃ) এর আমলে সাহাবীদের ভারত আগমন ঘটে। যে সমস্ত সাহাবীদের ভারত আগমনের সন্ধান পাওয়া যায় তারা হচ্ছেন-

১।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবান(রাঃ)

২।হযরত আসেম ইবনে আমর আত তামীমী(রাঃ)

৩।হযরত যুহার ইবনে আল আবদী(রাঃ)

৪।হযরত সুহাইব ইবনে আদী(রাঃ) এবং

৫।হযরত আল হাকাম ইবনে আবিল আ’স আস সাকাফী(রাঃ)

হযরত উওমান (রাঃ) এর আমলে দু’জন সাহাবীর সন্ধান পাওয়া যায়। যারা ভারত বর্ষে আগমন করেন। তারা হচ্ছেন-

১। হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে মা’মর আততামীমী(রাঃ)ও ২> হযরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা ইবনে আবদে শাসস।

হযরত আমীর মুয়াবিয়ার যুগে আসেন-হযরত সিনাদ ইবনে সালমাহ,ইবনে আল মুহাব্বিক আল হুযালী।

উপরিউক্ত সাহাবী ভারত বর্ষের সীমান্তের শাসন কর্তা হয়ে আসেন।তদানিন্তন ইরাক শাসনকর্তা জিয়াদ তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে পাঠান।

তাবেয়ীদের ভারত আগমন

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে বহু সংখ্যক তাবেয়ী ভারত আসেন।হযরত আমীর মুয়াবিয়ার যুগে যিনি প্রথম আসেন তিনি হচ্ছেন-হযরত মুহলাব ইবনে আবু সফরা।জানা যায় তিনি ৪৪ হিজরী সনে হযরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা সাহাবীদের সংগে একজন সেনাধ্যক্ষ হিসেবে এখানে পদার্পণ করেন।

বাংলাদেশে ইলমে হাদীস গৌড় থেকে পান্ডুয়া

আলাউদ্দীন হুসাইন শাহ ইবনে সায়েদ আশরাফী মক্কী বাংলাদেশে রাজত্ব করেন ৯০০ হিজরী থেকে ৯২৪ হিজরী পর্যন্ত। তিনি গৌড়স্থ গুররিয়ে শহীদ নামক স্থানে (বর্তমান মালদহ জিলার অন্তর্ভুক্ত) ৯০৭ হিজরী সনে একটি উন্নত ধরনের মাদ্রাসা স্থাপন করেন। তিনি পান্ডুয়াতে একটি কলেজও স্থাপন করেন। এ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইলমে হাদীসের শিক্ষা দেয়া হতো। সহীহ আল বুখারীকে খাজেগীর শীরওয়ানী যার আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজদান বখশ ৯১১ সনে তিনখন্ড নকল করেন।বর্তমানে এ খন্ড তিনটিকে বাকীপুরের অরিয়েন্টাল লাইব্রেরীতে আছে।

সোনার গাঁও

সায়াদাতের (৯০০-৯৪৫) রাজত্বকালে মুহাদ্দিস শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা বোখারী হাম্বলী(মৃ ৭০০ হি) সপ্তম শতকে ঢাকা জেলাধীন সোনারগাঁও আগমন করেন। তিনি হাদীস শিক্ষার জন্য ব্যপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নুসরত ইবনে হুসাইন শাহ-এর রাজত্বকালে প্রসিদ্ধ হাদীস বিজ্ঞ তকীউদ্দীন আইনদ্দীন(৯২৯ হি)এখানে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন।তখন সোনারগাঁও ছিল পূর্ববাংলার রাজধানী। ফলে প্রচুর হাদীস বিশারদ এখানে এসে জড়ো হন এবং এটাকে ইলমে হাদীসের কেন্দ্রে পরিণত করেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হওইয়ার পর থেকে অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে হাদীসের শিক্ষাদানের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখনও করা হচ্ছে। তবুও বলতে হয় আগের কালের শিক্ষার্থীদের ন্যায় বর্তমানের শিক্ষার্থীরা পারদর্শিতা অর্জন করতে পারেনি।এর পিছনে একটি মাত্রই কারণ বলা যায়,তা হল শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি।

তাহমীদ

রাসূল(সাঃ)সম্মন্ধে হাদীসে যে সব বিষোয়ে আলোকপাত করা হয়েছে-

১।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চেহারা ও গঠনাকৃতির আলোচনা

২।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চুলের আলোচনা

৩।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর পাকা চুলের আলোচনা

৪।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চুল আঁচড়াবার আলোচনা

৫।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চুলে খেজব লাগাবার আলোচনা

৬।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চোখে সুরমা লাগাবার আলোচনা

৭।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর পোশাকের আলোচনা

৮।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর জীবন যাপনের আলোচনা

৯। রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর মোজার আলোচনা

১০।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর পাপোশের আলোচনা

১১।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আংটির মোহরের আলোচনা

১২। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর তলোয়ারের আলোচনা

১৩।রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর লৌহ বর্মের আলোচনা

১৪।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর লৌহ শিরস্থানের আলোচনা

১৫।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর পাগড়ীর আলোচনা

১৬।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর পায়জামার আলোচনা

১৭।রাসুলুল্লাহ (স;) এর চলার আলোচনা

১৮।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর মুখে কাপড়ের আলোচনা

১৯।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর বসার আলোচনা

২০।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর বিছানা ও বালিশের আলোচনা

২১।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর হেলান দেবার আলোচনা

২২।রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আহার করার আলোচনা

২৩।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর রুটি খাওয়ার আলোচনা

২৪। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর গোশত ও ত্বকের আলোচনা

২৫।রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর অযু করার আলোচনা

২৬।রাসূলুল্লাহ(সঃ) এর আহারের পূর্বে ও পরে দোয়া পাঠের আলোচনা

২৭।রাসূলুল্লাহ(সঃ) এর পেয়ালার আলোচনা

২৮।রাসূলুলাহ(সঃ) এর ফলের আলোচনা

২৯।রাসূলুল্লাহ(সঃ) কি কি পান করতেন তার আলোচনা

৩০।রাসুলুল্লাহ(সঃ) কিভাবে পান করতেন তার আলোচনা

৩১।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর খোশবু লাগানোর আলোচনা

৩২। রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর কথার বলা আলোচনা

৩৩।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর কবিতা পাঠের আলোচনা

৩৪।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর রাত্রে কথা-বার্তা ও গল্প বলার আলোচনা

৩৫।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর নিদ্রার আলোচনা

৩৬।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর ইবাদাতের আলোচনা

৩৭।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর হাসির আলোচনা

৩৮।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর রসিকতার আলোচনা

৩৯।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর চাশত নামাযের আলোচনা

৪০।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর গৃহে নফল পড়ার আলোচনা

৪১।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর রোযা রাখার আলোচনা

৪২।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর কোরআন পাঠের আলোচনা

৪৩।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর রোনাজারির আলোচনা

৪৪।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর নম্রতার আলোচনা

৪৫।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর আচার ব্যবহারের আলোচনা

৪৬।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর ক্ষৌর কাজের আলোচনা

৪৭।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর নামসমূহের আলোচনা

৪৮।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর জীবনের বিভিন্ন অবস্থার আলোচনা

৪৯।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর জন্ম তারিখ ও বয়সের আলোচনা

৫০।রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর মীরাস ও পরিত্যক্ত বস্তুর আলোচনা

এই তথ্য থেকে আমরা জানতে পারলাম রাসূল(সঃ) সম্পর্কে সাহাবীগণ,তাবেয়ী,তাবে তাবেয়ীগণ ও হাদীস বিশারদগণ কত সচেতন ছিলেন।

আসহাবে সুফফা

রাসুল(সঃ) এর সাহাবীদের ভেতর ৭০(সত্তর) জন সাহাবী ছিলেন যারা নিজেদের জীবনকে ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেন।তাদেরকে আসহাবে সুফফা বলা হতো।মসজিদে নববীর উঠোন ছাড়া তাদের মাথা গুজবার দ্বিতীয় কোন স্থান ছিল না।দুনিয়ায় তাদের মালিকানায় এক টুকরো কাপড় ছাড়া কিছুই ছিল না। এমন উৎসর্গিত প্রাণের কথা কল্পনাও করা যায়?? তারা দিনের বেলা প্রয়োজনে জংগলে গিয়ে কাঠ কেটে আনতেন এবং তা বিক্রি করে নিজদের ভরণ পোষণ চালাতেন।এমন কি এ থেকে আল্লাহর পথেও ব্যয় করতেন।

আসহাবে সুফফার উল্লেখযোগ্য ২৪ জন সদস্য

১।আবু হুরায়রা(রাঃ) (মৃ ৫৭ হি)

২।আবু জর গিফারী (রাঃ) (মৃ ৩২ হি)

৩।কাব ইবনে মালেক আল আনসারী(রাঃ) (মৃ ৩৪ হি)

৪।সালমান ফারসী(রাঃ) (মৃ ৩৪ হি)

৫।হানজালা ইবনে আবু আমির(রাঃ)

৬।হারিসা ইবনে নুমান(রাঃ)

৭।হুজায়ফা ইবনুল য়ামান(রাঃ)

৮।আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ)

৯।সুহায়ব ইবনে সিনান রুমি(রাঃ)

১০।সালেম মাওলা আবি হুজায়ফা(রাঃ)

১১।বিলাল বিন রাবাহ(রাঃ)

১২।সা’দ বিন মালিক আবু সাইদ খুদরী(রাঃ)

১৩।আবূ উবায়দাঃ ‘আমির ইবনুল জাররাহ(রাঃ)

১৪।মিকদাদ ইবনে আমের(রাঃ)

১৫।আবু মারছাদ(রাঃ)

১৬।আবু লুবাবা(রাঃ)

১৭।কাব ইবনে আমর(রাঃ)

১৮।আবদুল্লাহ ইবনে উনায়স(রাঃ)

১৯।আবু দ্দারদা(রাঃ) (মৃ ৩২ হি)

২০।ছাওবান [মাওলা রাসুলিল্লাহ(সঃ)](রাঃ)

২১।সালিম ইবনে উমায়ের(রাঃ)

২২।খাব্বাব ইবনে আরাও(রাঃ)

২৩।মিসতাহ ইবনে উছাছা(রাঃ)

২৪।ওয়াছিলা ইবনুল আসকা(রাঃ)

ওহী ও হাদীস

শায়খ আবুদুল্লাহ শারকাভী লিখেছেন-‘ওহী’ অর্থ জানাইয়া দেয়া।আর শরীয়তের পরিভাষায় ওহী হল- ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নবীগণকে কোন বিষয় বলে দেয়া বা ফেরেশতা পাঠান কিংবা স্বপ্ন যোগে অথবা ইলহামের সাহায্যে জানিয়ে দেয়া।এই শব্দটি ‘আদেশ দান’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়।(হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ ৪৯)

রাসুলে করীম(সঃ) এর নিকট বিভিন্ন উপায়ে ওহী নাযিল হত। উপায়গুলি হল-

১।সত্য স্বপ্নঃ নবুয়ত লাভের প্রথম পর্যায়ে নবী করীম(সঃ) স্বপ্ন দেখতে পেতেন এবং তার এ স্বপ্ন বাস্তবে হুবহু মিলে যেতো।এই স্বপ্নগুলো ছিল অত্যন্ত ভালো।

২।দিল বা মনের পটে উদ্রেক হওয়াঃ রাসূল(সঃ) এ সম্মন্ধে বলেছেন-“জিবরাঈল ফেরেশতা আমার মনের পটে এই কথা ফুঁকে দিলেন যে নির্দিষ্ট রেজেক পূর্ণ রূপে গ্রহণ করার ও নির্দিষ্ট আয়ুষ্কালপূর্ণ হওয়ার আগে কোন প্রাণীই মরতে পারে না।”(হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ ৫০)।

৩।ঘন্টা ধ্বনির মত শব্দে ওহী নাযিল হওয়াঃহযরত আয়েশা(রাঃ) হযরত হারেস ইবনে হিশাম(রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন,তিনি নবী করীম(সঃ) কে জিজ্ঞেস করেন-“আপনার নিকট ওহী কিভাবে নাযিল হয়?”এর জবাবে নবী করীম (সঃ) বলেন “কখনও ওহী আমার নিকট প্রচন্ড ঘন্টার ধ্বনি মত আসে।যা আমার উপর বড় কঠিন ও দুঃসহ হয়ে থাকে।পরে ওহীর তীব্রতা ও প্রচন্ডতা আমার উপর দিয়ে যায়।এই অবসরে যা বলা হল তা সবই আমি আয়ত্ব ও মুখস্ত করে লই।”(বোখারী শরীফ ১ম খন্ড ১ম পৃ)

৪।ব্যক্তি বেশেঃ এ প্রসংগে রাসুল(সঃ) বলেছেন- “কখনও ফেরেশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন,তিনি আমার সাথে কথা বলেন এবং যা বলেন তা আমি ঠিকভাবে আয়ত্ত করে লই।“(বোখারী শরীফ ১ম খন্ড ১ম পৃঃ)

ব্যক্তি বেশে জিবরাঈল (আঃ) বেশির ভাগ সময় হযরত দাহিয়া কালবী নামক সাহাবীর রূপ ধরে আসতেন।ফেরেশতা কেন দাহিয়া কালবীর রূপ ধারণ করতেন এর কারণ বলতে গিয়ে আল্লামা বদর উদ্দীন আইনী লিখেছেন-“অন্যান্য সাহাবীদের পরিবর্তে বিশেষভাবে দাহিয়া কালবীর রূপ ধারণ করে ফেরেশতার আগমন করার কারণ এই যে,তিনিই সে সময়ের লোকদের মধ্যে সর্বাধিক সুশ্রী ও সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট ছিলেন।”(হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃ ৫৪)।

৫।জিবরাঈল(আঃ) এর নিজস্ব আকৃতিতেঃএ সম্পর্কে রাসূলে করীম(সঃ) বলেছেন-“আমি পথ চলছিলাম হঠাৎ উর্ধ্বদিক হতে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম।আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেলাম সেই ফেরেশতা যিনি ইতোপূর্বে হেরার গুহায় আমার নিকট এসেছিলেম,তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে উপবিষ্ট।অতঃপর আল্লাহ তায়ালা সূরা মুদাসসির নাযিল করেন।”(বোখারী শরীফ ১ম খন্ড ৭৩৩ পৃ)

৬।পর্দার অন্তরাল থেকে রাসূলে করীম(সঃ) এর সাথে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার কথা বলা এবং ওহী নাযিল করা- এই প্রকার ওহী নাযিলের ব্যাপারে কোন মধ্যস্থতাকারী অর্থাৎ ফেরেশতার দরকার হয় না।আল্লাহ তায়ালা সরাসরি তার রাসূলকে পর্দার অন্তরাল থেকে ওহী নাযিল করেন।এ প্রসংগে পবিত্র কোরআন এ বলা হয়েছে-

“আল্লাহ কোন লোকের সাথে কথা বলেন না,তবে তিনি ওহী নাযিল করেন কিংবা পর্দার অন্তরাল হতে কথা বলেন।”(সুরা আশশুরা ৫১ আয়াত)

এতক্ষন ওহী সম্মন্ধে এই জন্যই আলোচনা করলাম যে,হাদীস কোথা থেকে আসলো,বিষয়টা বুঝা সহজ হবে। আসলে হাদীসও কি ওহী ?

এ সম্পর্কে মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম তার হাদীস সংকলনের ইতিহাসের ৬২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-“আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবীর প্রতি যে ওহী নাযিল করেছেন,তাই হচ্ছে হাদীসের মূল উৎস।আল্লাহ প্রেরিত ওহী প্রধানত দুই প্রকারের- প্রথম প্রকারের ওহীকে বলে ওহীয়ে মাতলু-সাধারণ পঠিতব্য ওহী,যাকে ওহীয়ে জ্বলীও বলে।আর দ্বিতীয় প্রকারের ওহীকে ‘ওহীয়ে গায়রে মাতলু’ বলে।এটা সাধারণত তেলাওয়াত করা হয় না। যার অপর নাম ‘ওহীয়ে খফ’ প্রচ্ছন্ন ওহী। যা হতে জ্ঞান লাভ করার সুত্র এবং এ সুত্রে লব্ধ জ্ঞান উভয়ই বুঝানো হয়।”

আমরা জানি কোরআনের পরই হাদীসের স্থান।আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-“হে নবী ! আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

এই আয়াতে উল্লেখিত আল-কিতাব অর্থ কোরআন মজীদ এবং হিকমত অর্থ সুন্নাত বা হাদীসে রাসূল(এবং এ উভয় জিনিসই আল্লহর নিকট হতে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ।”)

এখন নিশ্চয়ই বুঝা গেল হাদীসও এক প্রকার ওহী।

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় হাদীসের গুরুত্ব

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় হাদীসের গুরুত্ব এত যে সে কথা বলে শেষ করা যায় না। এ প্রসংগে আল্লাহ নিজেই বলেছেন-“বল হে নবী,আল্লাহ ও রাসূলকে মেনে চল,যদি তা না কর তবে জেনে রাখ আল্লাহ কাফেরদের ভালবাসেন না।”(সূরা আল ইমরান,২২ আয়াত)

এই আয়াত থেকেই হাদীসের গুরুত্ব যে কত তা স্পষ্ট বুঝা যায়- রাসূলকে(সাঃ) মেনে চল অর্থ হলো নবী (সঃ) যা করেছেন,বলেছেন,অনুমোদন করেছেন তা এনে চলা।

অন্যস্থানে একটূ ব্যপকভাবে বলা হয়েছে- “হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও রাসূলের(সাঃ) আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্য হতে দায়িত্বশীল লোকদেরও অনুগত হও,কোন বিষয়ে তোমরা পরষ্পর মতবিরোধ করলে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফেরাও।”

এই আয়াতে তিনটি বিভিন্ন সত্তার আনুগত্য করার কথা বলা হয়েছে- ১।আল্লাহর আনুগত্য ২।রাসূল(সাঃ) এর আনুগত্য ৩।মুসলিম দায়িত্বশীল লোকদের আনুগত্য করা। যেহেতু ইসলাম সর্বকালের সর্ব মানুষের জন্য, এই জন্য তৃতীয় স্তরে দায়িত্বশীলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদীসের অপরিহার্যতা

এতক্ষণের আলোচনায় আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারলাম হাদীসের গুরুত্ব কতটুকু।হাদীসের অপরিহার্যতা হলো এই যে হাদীস ছাড়া কোরআনের ব্যাখ্যা করা যায় না। তাছাড়া কোরআন ও হাদীস সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) নিজেই বলেছেন-“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি।এই দুটি অনুসরণ করতে থাকলে অতঃপর তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না।তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও আমরা সুন্নাত(হাদীস) এবং কিয়ামতের দিন হাওযে কাওসার এ উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত এই দুটি জিনিস কখনই পরষ্পর হতে বিচ্ছিন্ন হবে না।”(মুস্তাদরাক হাকেম ১ম খন্ড ৯৩ পৃঃ)

বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল(সাঃ) বলেছেন- “দুটি জিনিস যা আমি তোমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছি তোমরা যতক্ষণ এই দুটি জিনিস দৃঢ়ভাবে ধরে থাকবে তোমরা কখনও গোমরাহ হবে না।তা হলো, আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূলের সুন্নাত।”(মালেক ইবনে আনাস বর্ণিত- মুস্তাদরক হাকেম)

এবার নিশ্চয়ই বুঝতে বাকী থাকার কথা নয় কেন আজ সারা বিশ্বে মুসলমানদের এই দশা।আসলে আমরা কোরআন হাদীসের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছি। এরপর, আমাদের দেশে এমনি এক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে যা ইংরেজ প্রবর্তিত। এতে কোরান হাদীস শিক্ষার তেমন সুব্যবস্থা নেই। শুধু মাদরসার ভাইয়েরা যা একটু আদটু জ্ঞান পেয়ে থাকেন।তারাও আবার আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকেন। বলতে কুন্ঠা নেই যে,পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই জন্যই আমরা এত নির্যাতিত।তাই আর বসে থাকলে চলবে না,নিজদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য।

হাদীস সংরক্ষণ

হাদীস সংরক্ষণের ব্যাপারে মুসলমানদের ভিতরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে।কতিপয় প্রাচ্য পন্ডিত ও শিক্ষিত মিশনারী যাদের মধ্যে স্যার উইলিয়াম মুর ও গোণডজার সবচাইতে অগ্রণী,তারা রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর হাদীস গুলোর সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার কাজ তার ইন্তেকালের ৯০ বছর পর শুরু হয়েছে বলে এগুলির ত্রুটিহীনতা ও প্রামাণ্যতার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।

এমনকি মুসলমানদের ভেত্র এ ধারণা সৃষ্টি করতেও সক্ষম হয়েছেন যে,হাদীসও নবী চরিত সংকলন ও রচনার কাজ শুধু তাবেঈগণ শুরু করেন।

তাই অনেকে স্বাভাবিকভাবেই মনে করে থাকেন নবী চরিত সংগ্রহ ও সংকলনের কাজ তার ওফাতের একশো বছর পর শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই- একথাগুলো ভাওতা ছাড়া আর কিছুই নয় অথবা অজ্ঞতার বশবর্তী হয়েই এ কথা প্রচার করা হয়েছে।আসলে এ কাজ নবী (সাঃ) এর জীবিত অবস্থা থেকেই শুরু হয়েছে।তার প্রমাণ-

হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) বলেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স(রাঃ) ব্যতীত কারো আমার চাইতে অধিক সংখ্যক হাদীস স্মরণ নেই। আমার চাইতে তার নিকট অধিক সংখ্যক সংরক্ষিত থাকার কারণ হচ্ছে এই যে,তিনি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট যা কিছু শুনতেন সব লিখে রাখতেন।কিন্তু আমি লিখে রাখতাম না।(বোখারী শরীফ)

আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বলে উল্লেখিত হয়েছে যে, কতিপয় সাহাবা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বললেন- রাসুলুল্লাহ(সাঃ) কখনো ক্রুদ্ধ অবস্থায় আনার কখনো প্রফুল্ল অবস্থায় থাকেন অথচ তুমি সকল অবস্থায়ই সব কিছু লিখে রাখো। একথার পর আবদুল্লাহ ইবনে আম(রাঃ) লেখা বন্ধ করলেন এবং রাসুলুল্লাহর(সাঃ) নিকট বিষয়টি বললেন। রাসুলুল্লাহ(সাঃ) নিজের মুখের দিকে ইশারা করে বললেন- তুমি লিখতে থাকো এ স্থান থেকে যা বের হয় সত্যই হয়ে থাকে। (আবু দাউদ-দ্বিতীয় খন্ড ৭৭ পৃষ্ঠা

আবদুল্লাহ ইবনে আমর(রাঃ) তার এ সংকলনের নাম রাখেন ‘সাদেকা’। (ইবনে সায়াদ- দ্বিতীয় খন্ড ২য় অধ্যায় পৃষ্ঠা ১২৫)। তিনি বলতেন মাত্র দু’টি জিনিসের জন্য আমি জীবিত থাকার আকাংখা করেছি।তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এই সাদেকা এবং সাদেকা এমন একটি কিতাব যা রাসুলুল্লাহর(সাঃ) এর পবিত্র মুখ থেকে শুনে শুনে আমি লিখেছি। [দারেমীঃ ৬ পৃষ্ঠা]

মুজাদি বলেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর(রাঃ) এর নিকট কিতাব রক্ষিত দেখেছি।জিজ্ঞেস করলাম এটি কি কিতাব? বললেন ‘সাদেকা’।এটি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর মুখ থেকে শুনে শুনে আমি লিখেছি।এই কিতাব আমার ও রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর মাঝখানে আর কেঁউ নেই (ইবনে সায়াদঃ ২-২-১২৫)। বোখারী শরীফে উল্লেখ আছে যে,মদীনায় হিজরত করার কিছু কাল পর রাসুলুল্লাহ(সাঃ) মুসলমানদের আদমশুমারী করে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন করেন। উক্ত তালিকায় পনের শ নাম ছিল (বাবুল জিহাদ)। বর্তমানে বোখ্রী শরীফে দু পৃষ্ঠা ব্যাপী যাকাত সম্পর্কিত যে সব নির্দেশ বিভিন্ন বস্তুর ওপর দেয়া যাকাত এবং তার হার সম্পর্কে যে আলোচনা রয়েছে,তা রাসুলুল্লাহই(সাঃ) লিখিত আকারে দায়িত্বশীল কররমচারীদের নিকট প্রেরণ করেন। হযরত আবুবকর (রাঃ) এর নিকট আবুবকর ইবনে হাযমের খান্দানে এবং আরও কিছু লোকের নিকট এই নির্দেশনামা মওজুদ ছিল(দারে কুতনী- কিতাবুজ্জাকাত – ২০৯ পৃঃ)।

সুস্পষ্টরূপে হাদীসের সাথে সম্পর্কিত কয়েকটি দস্তাবেজের নাম উল্লেখ করছি-

১।হোদায়বিয়ার সন্ধিনামা।(বোখারী প্রথম খন্ড ৩৭ পৃষ্ঠা)

২।বিভিন্ন কবিলা ও গোত্রের প্রতি বিভিন্ন সময়ে লিখিত ফরমান।(তাবাকাতে ইবনে সায়াদ,কিতাবুল আমওয়াল আবু ওবাইদ পৃঃ-২১০)।

৩।বিভিন্ন দেশের বাদশাহ ও রাষ্ট্র নেতাদের নিকট লিখিত ইসলামী দাওয়াতের পত্রাবলী।(বোখারী শরীফ দ্বিতীয় খন্ড ৬৩১ পৃঃ)

৪।আবদুল্লাহ ইবনে হাকীম সাহাবীর নিকট রাসূলের প্রেরিত চিঠি। এই চিঠিতে মৃত জন্তু ইত্যাদি সম্পর্কিত আইন লিখিত হয়েছিল।(মু’জিমুসসগীর,তীবরাণী)।

৫।ওয়ায়েল ইবনে হাজার সাহাবীর জন্য নামাজ,মদ্যপান ও সুদ ইত্যাদি সম্পর্কে নবী করীম(সাঃ) বিধান লিখাইয়া দিয়াছিলেন।(মু’জিমুসসগীর তীবরাণী)।

এইভাবে প্রচুর উদাহরণ তুলে ধরা যাবে যা রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর আমলেই লিখিত হয়েছিল।

আর যা লিখিত ছিল না হাফেজে হাদীসের কন্ঠস্থ ছিল।সে সময়কার আরবজাতির স্মরণ শক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল,একবার শুনলে তারা তা আর কখনো ভুলতো না।যেমন- “হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) বপুল সংখ্যক হাদীসের হাফেজ ছিলেন।কিন্তু উমাইয়া বংশের শাসক খলিফা মারওয়ান ইবনে হেকামের মনে এ সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি হযরত আবু হুরায়রার পরীক্ষা লওয়ার জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করেন। একদিন কিছু সংখ্যক হাদীস শুনাবার অনুরোধ করলেন। আবু হুরায়রা(রাঃ) তখন নির্দেশ মোতাবেক কিছু সংখ্যক হাদীস শুনিয়ে দিলেন। মারওয়ানের নির্দেশ মোতাবেক পর্দার অন্তরালে বসে হাদীসসমূহ লিখে নেওয়া হয়। বাৎসরিক কাল পরে একদিন ঠিক এই হাদীসসমূহ শুনাবার জন্য হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) কে অনুরোধ করা হলে তিনি সেই হাদীসসমূহই এমনভাবে মুখস্ত শুনিয়ে দেন যে পূর্বের শুনানো হাদীসের সাথে এর কোনই পার্থক্যই হয়নি। এ ঘটনার হতে হযরত আবু হুরায়রার স্মরণ শক্তির প্রখরতা অনস্বীকার্যভাবে প্রমাণ হয়।

হাদীস সংগ্রহ

এ এক মজার কাহিণী। বিভিন্ন হাদীস সংগ্রহের জন্য দেখা যায় হাদী সংগ্রহকারীরা অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছেন,এমনকি নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও হাদীস সংগ্রহের জন্য বাড়িঘর পরিবার পরিজন ত্যাগ করে,দেশে বিদেশে,পাহাড়-পর্বত, সাগর-নদী ডিঙ্গিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন,যদি রাসূল(সাঃ) এর একটি হাদীস পাওয়া যায়। দু’একটি উদাহরণ দিলে আমার মনে হয় বুঝতে সুবিধা হবে যে, হাদীস সংগ্রহকারীরা কি কষ্ট স্বীকার করেছেন ও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন-

বোখারী শরীফে উল্লেখ আছে-“হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের নিকট হতে একটি হাদীস শ্রবণের উদ্দেশ্যে একমাস দূরত্বের পথ অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। তিনি সংবাদ জানতে পেরেছিলেন যে,সুদূর সিরিয়ার অবস্থানকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রাঃ) রাসূলে করীমের (সাঃ) একটি হাদীস জানেন,যা অপর কারও নিকট রক্ষিত নেই।সংবাদ পাওয়া মাত্রই তিনি উষ্ট্র ক্রয় করে সিরিয়ার পথে রওয়ানা হয়ে যান। একমাস কালের পথ অতিক্রম করে সিরিয়ার গ্রামাঞ্চলের নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস(রাঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন।তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমার নিকট হতে আমার নিকট একটি হাদীস পৌছেছে যা তুমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) নিকট হতে শুনেছ। আমার ভয় হলো যে তোমার নিজের নিকট হতে তা কানে প্রবেশ করার পূর্বেই হয়তো আমি মরে যাবো। (এই ভয়ে অনতিবিলম্বে তোমার নিকট হাযির হয়েছি।)”

এই বর্ণনা থেকে বুঝা গেল হাদী শোনা সত্ত্বেও তারা(হাদীসের) সঠিকতা যাচাই করার জন্য সুদূর একমাসের কষ্ট সহ্য করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তাহলে তাদের নিকট হাদীসের গুরুত্ব কত ছিল?

যে হাদীসটি শোনার জন্য জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের নিকট এসেছিলে – দেখা হলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস(রাঃ) হাদীসটি মুখস্ত শুনালেন।

“আমি রাসূলে করীম(সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তায়ালা বান্দাদিগকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করবেন এবং তাদেরকে এমন এক আওয়াজে সম্বোধন করবেন, যার নিকট ও দূরে অবস্থিত লোকেরা সমান ভাবে শুনতে পাবে। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করবেন- আমিই মালিক আমিই বাদশাহ আমিই অনুগ্রহকারী।” (বোখারী শরীফ ২য় খন্ড)

আর একটি ঘটনা যা হাদীস সংগ্রহে হাদীস সংগ্রহকারীদের ভূমিকা সম্বন্ধে –

হযরত মুয়াবিয়া(রাঃ) শাসন আমলে হযরত আবু আইয়ুব আনসারী(রাঃ) শুধুমাত্র একটি হাদীস শোনার উদ্দেশ্যে মদীনা হতে মিশরের নিভৃত পল্লীতে অবস্থানকারী হযরত আকাবা ইবনে আমের জুহানী(রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হন।আকাবা সংবাদ পেয়েই বাইরে আসলেন ও হযরত আবু আইয়ুব (রাঃ) কে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। জিজ্ঞেস করলেনঃ

“আবু আইয়ুব। আপনি কি কারণে এতদূরে আমার নিকট এসেছেন।তখন আবু আইয়ুব(রাঃ) বললেন- মুমিন ব্যক্তির ‘সতর’(বিশেষ জিনিস গোপন রাখা) সম্পর্কে একটি হাদীস আমি রাসূলের (সাঃ) নিকট শুনেছিলাম,কিন্তু এখন তোমার প আমার ছাড়া তার শ্রবণকারী আর কেঁউ দুনিয়ায় বেচে নেই।তাই তোমার নিকট হতে শ্রবণের বাসনা নিয়ে আমি এতদূর এসেছি।”

তখন হযরত আকাবা(রাঃ) নিম্নলিখিত ভাবে হাদীসটি বললেন- “যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় কোন ম’মিন লোকের কোন লজ্জাকর,অপমানকর কাজ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার গুনাহকে গোপন(মায়াফ) করে দিবেন।”

হযরত আবু আইয়ুব বাঞ্ছিত হাদিসটি শুনে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছো সত্যই বলেছো।’ অতঃপর তিনি উষ্ট্রযানে সওর হয়ে মদীনার দিকে এমন দ্রুততা সহকারে রওয়ানা হয়ে গেলেন যে, মিশরের তদানিন্তন শাসনকর্তা মুসলিমা ইবনে মাখলাছ তাকে প্রচুর পরিমাণে উপঢৌকন দেওয়ার আয়োজন করেও তা তাকে দিতে পারলেন না, সেজন্য তিনি একটুও সময়ও বিলম্ব করতে প্রস্তুত হলেন না।” (বায়হাকী ইবনে মাজাহ, জামে বায়নুল ইলম,মুসনাদে আহমদ ৪র্থ খন্ড ৫ পৃষ্ঠা)

হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়।ইমাম আবু হানিফা যে সমস্ত শর্ত হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে প্রদান করেন তা নিম্নরূপ।

১।কোন হাদীস বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী যদি তা ভুলে যায়, তবে সাধারণ মুহাদ্দিসদের নিকট তা গ্রহণীয় হলেও ইমাম আবু হানিফা এবং তার শাগরীদগণ তা গ্রহণ করতে রাজী নন।

২।কেবল সেই হাদীসই গ্রহণযোগ্য,প যা বর্ণনাকারী স্বীয় স্মরণ ও সৃতিশক্তি অনুসারে বর্ণনা করবেন।

৩।যে সব প্রখ্যাত মুহাদ্দিসের মজলিশে বিপুল সংখ্যক শ্রবণকারীর সমাবেশ হওয়ার কারণে উচ্চ শব্দকারী লোক নিয়োগ করা হয় এবং তাদের নিকট দ্রুত হাদীসকে আসল মুহাদ্দিসের নিকট শ্রুত হাদীস বলে বর্ণনা করা হয়, ইমাম আবু হানিফার নিকট সেই হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।হাফেজ আবু নয়ীম, ফযল ইবনে আকীল, ইবনে কুদামাহ প্রমুখ প্রখ্যাত মুহাদ্দীসগণও এই মত পোষণ করেন। হাফেজ ইবনে হাজার মক্কীর মতে এটা বিবেক সম্মত কথা হলেও সাধারণ মুহাদ্দিসের সহজ সাধ্য।

৪। যে বর্ণনাকারী নিজের খাতায় লেখা লেখতে পেয়ে কোন হাদীস বর্ণনা করেন, কিন্তু তা তার কোন অস্তাদ মুহাদ্দিসের নিকট শুনেছেন বলে স্মরণে পড়ে না, ইমাম আবু হানিফা এই ধরনের হাদীস সমর্থন করেন না। অপরাপর মুহাদ্দিসের মতে এতে কোন দোষ নেই। (হাদীস সংকলনের ইতিহাস-৩৭৯ পৃঃ)

গ্রন্থাকারে হাদীস

আমরা আজকেই যে সুন্দর হাদীস গ্রন্থ দেখছি তা রাসূল(সাঃ) এর জীবিত অবস্থায় সংকলিত হয়নি। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালিনী এ সম্পর্কে লিখেছেন-

‘নবী করীম(সাঃ) এর হাদীস তাহার সাহাবী ও শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের যুগে গ্রন্থকারে সংকলিত ও সুসংবদ্ধ ছিলনা।”

মদীনার ইসলাম- রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ইসলামের দ্বিতিয় স্তম্ভ হাদীসের যথেষ্ট মর্যাদা দেওয়া হয় কিন্তু খোলাফায়ে রাশেদার আমলে হাদীস গ্রন্থকারে সংকলিত হতে পারেনি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমেনীন হযরত উমর(রাঃ) বিপুল সংখ্যক ও লিপিবদ্ধ করে ইসলামী রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশের উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের শাসকদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং সর্ব সাধারণের ব্যাপক প্রচার করার নির্দেশ দেন।

হযরত উমর(রাঃ) এর আমলেই হাদীস সংকলন ও লিপিবদ্ধ করা এবং তাকে সুসংবদ্ধ করার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। কিন্তু তিনি অনেক চিন্তা ভাবনার পর নিজেই একদিন বলেন-

“আমি তোমাদের নিকট হাদীস লিপিবদ্ধ ও সংকলিত করার কথা বলেছিলাম,এ কথা তোমরা জান।কিন্তু পরে মনে হলো, তোমাদের পূর্বের আহলে কিতাব লোকেরাও এমনিভাবে নবীর কথা সংকলিত করেছিলো,ফলে তারা তাই আকড়ে ধরলো এবং আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করল। আল্লাহর শপথ,আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছুই মিশ্রিত করবো না। অতঃপর তিনি হাদীস সংকলিত করার সংকল্প ত্যাগ করেন।”(হাদীস সংকলনের ইতিহাস-৪১৯ পৃঃ)

এরপর হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত আলীর(রাঃ) আমলে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায় না। ৯৯ হিজরীতে হযরত উমর ইবনে আবদুল আজীজ খলীফা নির্বাচতে হওয়ার পরই হাদীস সংকলনের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভব করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে হাদীস সংকলন যে কোন মূল্যেই করার প্রয়োজন, নইলে ধীরে ধীরে মানুষ তা থেকে গাফেল হয়ে যাবে।তাই তিনি ইসলামী রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ফরমান জারি করলেন যে- “রাসূল করীমের(সাঃ) হাদীসের প্রতি অনতিবিলম্বে দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ ও সংকলন অরতে শুরু করো।”

মদীনার শাসনকর্তা ও বিচারপতি ইবনে মুহাম্মদ হাজ্জাকেও ফরমান পাঠান- “রাসূলের হাদীস, তার সুন্নাত কিংবা হযরত উমরের বাণী অথবা অনুরূপ যা কিছু পাওয়া যায় তার প্রতি দৃষ্টি দাও এবং আমার জন্য লিখে নাও।কেননা আমি ইলমে হাদীসের ধারকদের অন্তর্ধান ও হাদীস সম্পদের বিলুপ্তি আশংকা বোধ করেছি।”

ইমাম দারেমী আবদুল্লাহ ইবনে দীনার এর জবানীতে- “রাসূলের যে সব হাদীস তোমার নিকট প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত তা এবং হযরত উমরের হাদীসসমূহ আমার নিকট লিখে পাঠাও। কেননা আমি ইলমে হাদীস বিনষ্ট ও হাদীসের বিদদের বিলীন হয়ে যাওয়া আশংকা বোধ করেছি।(হাদীস সংকলনের ইতিহাস)

এভাবে উমর ইবনে আবদুল আজীজ বহু ফরমান জারি করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মদীনার শাসনকর্তা কাজী আবু বকর বিপুল সংখ্যক হাদীস সংগ্রহ এবং হাদীস কয়েকখানি খন্ড গ্রন্থকারে সংকলন করেছিলেন।কিন্তু খলীফার ইন্তেকালের পূর্বে ‘দারুল খিলাফতে’ পৌছানো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি,এ সম্বন্ধে আল্লামা সুয়ুতী ইবনে আবদুল বার লিখিত ‘আত তাহমীদ’ গ্রন্থের সূত্রে উল্লেখ করেছেন-

‘ইবনে হাজম কয়েক খন্ড হাদীস সংকলন করেন; কিন্তু তা খলীফা উমর ইবনে আবদুল আজীজের নিকট পাঠিয়ে দেওয়ার পূর্বেই খলীফা ইন্তেকাল করেন।’’

আমরা হয়ত মনে করতে পারি উমর ইবনে আবদুল আজীজের জীবিত অবস্থায় কোন হাদীস গ্রন্থই তার নিকট এসে পৌছেনি,আসলে একথা ঠিক নয়। তিনি তো রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে হাদীস সংকলনের জন্য হুকুম দিয়েছিলেন- তাই অনেক স্থান থেকে তার জীবিত অবস্থায়ই হাদীস গ্রন্থকারে এসেছিল। এ প্রসংগে-

ইমাম ইবনে শিহাব জুহরী নিজেই বলেন- “উমর ইবনে আবদুল আজীজ আমাদের হাদীস সংগ্রহ ও সংকলন করার জন্য আদেশ করলেন। এ আদেশ পেয়ে আমরা হাদীসের বিরাট গ্রন্থ লিখে তার নিকট পাঠিয়ে দিলাম। অতঃপর তিনি নিজেই তাহার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রদেশে এক এক খানি গ্রন্থ পাঠিয়ে দিলেন।”

খলিফা শুধু হাদিস সংকলনের প্রতিই গুরুত্ব দিলেন না,হাদীস শিক্ষা দানের জন্যেও তিনি গুরুত্ব দেন এবং ফরমান জারি করেন-“হাদীসবিদ ও বিদ্বান লোকদেরকে আদেশ করুন তারা যেন মসজিদে মসজিদে হাদীসের শিক্ষা দান ও এর ব্যপক প্রচার করেন। কেননা,হাদীসের জ্ঞান প্রায় বিলীন হয়ে যাবার উপক্রম হচ্ছে।”

ইমাম যুহরীর পরবর্তী যারা ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্তেকাল করেন তাদের তালিকা দেওয়া হল।

সর্বশেষ ইন্তেকালকারী সাহাবা

বিভিন্ন শহরে সর্বশেষে ইন্তেকালকারী সাহাবাগণের নাম ও মৃত্যু সন নিম্নে দেওয়া হলোঃ

নাম শহরের নাম মৃত্যু সাল
১।আবু উমামা বাহেলী(রাঃ) সিরিয়া ৮৬ হিঃ
২।আবদুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে জুয’আ(রাঃ) মিশর ৮৬ হিঃ
৩।আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা(রাঃ) কুফা ৮৭ হিঃ
৪।সাইয়েব ইবনে ইয়াযীদ(রাঃ) মদীনা ৯১ হিঃ
৫।আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) বসরা ৯৩ হিঃ

যে সমস্ত সাহাবী বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন

নিম্নে যে সমস্ত সাহাবী বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন পর্যায়ক্রমে তাদের নাম,মৃত্যু সন, জীবনকাল এবং বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা দেওয়া হলো-

নাম মৃত্যু জীবনকাল সংখ্যা
১।হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) ৫৭ হিঃ ৭৮ বছর ৫৩৭৪ টি
২।হযরত আয়েশা সিদ্দিকা(রাঃ) ৫৮ হিঃ ৬৭ বছর ২২১০ টি
৩।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) ৬৮ হিঃ ৭১ বছর ১৬৬০ টি
৪।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) ৭০ হিঃ ৮০ বছর ১৬৩০ টি
৫।হযরত জাবেদ ইবনে আবদুল্লাহ(রাঃ) ৭৪ হিঃ ৯৪ বছর ১৫৪০ টি
৬।হযরত আনাস ইবনে মালেক(রাঃ) ৯৩ হিঃ ১০৩ বছর ১২৮১ টি
৭।হযরত আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) ৪৬ হিঃ ৮৪ বছর ১১৭০ টি
৮।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ) ৩২ হিঃ -বছর ৮৪৮ টি
৯।হযরত আমর ইবনুল আ’ল(রাঃ) ৬৩ হিঃ -বছর ৭০০ টি

 

আশারায়ে মুবাশশারা

রাসূল(সাঃ) এর যে দশজন সাহাবী ঈমানের সর্বোত্তম পরীক্ষায় পরীক্ষিত হয়ে জীবিত কালেই বেহেশতের সুসংবাদ পান সেই দশজন সম্মানিত সাহাবীকে একত্রে আশারায়ে মোবাশশারা বলে।

যে দশজন সাহাবী আশারায়ে মোবাশশারার অন্তর্ভুক্ত তারা হলেন-

১।হযরত আবু বকর সিদ্দীক বিন আবু কোরাফা(রাঃ)

২।হযরত উমর ফারুক বিন আল খাত্তাব(রাঃ)

৩।হযরত ওসমান জুননুরাইন বিন আফফান(রাঃ)

৪।হযরত আলী মোর্তজা বিন আবু তালিব(রাঃ)

৫।হযরত তালহা বিন ওবাইদুল্লাহ(রাঃ)

৬।হযরত জোবায়ের বিন আল আওয়াম(রাঃ)

৭।হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ(রাঃ)

৮।হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস(রাঃ)

৯।হযরত সায়ীদ বিন জায়েদ(রাঃ)

১০।হযরত আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহ(রাঃ)

আসহাবে বদর

বদর যুদ্ধে যে সমস্ত সাহাবী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে আসহাবে বদর বলে।

পরোক্ষ অংশ গ্রহণের বিষয়টি এমন যে, রাসূল(সাঃ) এর নির্দেশে বা অনুমতিক্রমে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারেনি বা করেননি যে সমস্ত সাহাবী। এরা হলেন-

১।হযরত ওসমান বিন আফফান(রাঃ)

২।তালহা বিন উবায়দুল্লাহ(রাঃ)

৩।সায়ীদ বিন জায়েদ(রাঃ)

৪।আবু লুবাবা(রাঃ)

৫।ইসম বিন আদি(রাঃ)

৬।হারিছ বিন হাতিব(রাঃ)

৭।হারিছ বিন ছুম্মা(রাঃ) ও

৮।সাওগায়াত বিন জুবায়ের(রাঃ)

বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মোট সংখ্যা নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে। তবে প্রবল মতটি হলো ৩১৩ জন সাহাবী সরাসরি বদর প্রান্তরের যুদ্ধে শরীফ ছিলেন। অবশ্য যে সমস্ত অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক সাহাবী এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন,অথচ তাদেরকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়নি তারা এ ৩১৩ জনের বাইরে। যেমন-

১।বারা বিন আজিব(রাঃ)

২।আবদুল্লাহ বিন উমর(রাঃ)

৩।আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) ও

৪।জাবির ইবনে আবদুল্লাহ(রাঃ)

এ ছাড়া পরবর্তীকালে লেখকগণ আসহাবে বদরের তালিকা প্রস্তুত করতে গিয়ে কারো কারো ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি যে তিনি আসহাবে বদর ছিলেন কি ছিলেন না। যে কারণে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করার মানসে ঐ সমস্ত সাহাবীকেও আসহাবে বদরের তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে।ফলে আসহাবে বদরের তালিকা দীর্ঘ হয়ে ৩৬৩ পর্যন্ত পৌছেছে। অবশ্য এর অর্থ এ নয় যে আসহাবে বদরের সংখ্যা ৩৬৩ ছিল,আমরা একথা আগেই বলেছি যে, প্রবল মত হচ্ছে ৩১৩ জন। অতএব সে অনুযায়ী ৩১৩+৪(বালক সাহাবী)+৮(যারা রাসূল(সাঃ) এর নির্দেশ বা অনুমতিক্রমে অংশ গ্রহণ করেন নি।)= ৩২৩। হয়ত বা আরও কিছু বেশিও হতে পারে। আমরা এখানে ৩৩৫ জন সাহাবীর নাম উল্লেখ করবো।তার আগে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী শহীদগণের নাম উল্লেখ করতে চাই। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষের ১৪ জন মর্দে মুজাহিদ সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। অন্যমতে ১৭ জন, আবার কারো কারো মতে ২২ জন। তবে ১৪ জন শহীদ হওয়ার খবরটিই প্রসিদ্ধ। শহীদ ১৪ জন সাহাবী হলেন-

মুহাজির সাহাবী

১।হযরত মাহজা বিন সালেহ(রাঃ)

২।হযরত উবায়দা বিন হারিছ(রাঃ)

৩।হযরত উমায়ের বিন ওয়াক্কাস(রাঃ)

৪।হযরত আকিল বিন বুকায়ের(রাঃ)

৫।হযরত যুশশিমালাইন উমায়ের বিন আবদে উমায়ের(রাঃ)

আনসার সাহাবী

৬।হযরত আউফ বিন হারিছ(রাঃ)

৭।হযরত হারিছ বিন সুরাফা(রাঃ)

৮।হযরত মুয়াউয়িয বিন আফরা(রাঃ)

৯।হযরত রাফে বিন মুআল্লাহ(রাঃ)

১০।হযরত ইয়াজিদ বিন হারিছ(রাঃ)

১১।হযরত আম্মার বিন রিয়াদ(রাঃ)

১২।হযরত উমায়ের বিন হুমাম(রাঃ)

১৩।হযরত মুবাশ্বির বিন আবদুল মুনজির(রাঃ)

১৪।হযরত সাদ বিন বিন খায়সুরা(রাঃ)

বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের তালিকা

মুহাজির সাহাবী

১।হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)(মৃঃ ১৩ হি)

২।হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব(রাঃ)(মৃঃ ২৩ হি)

৩।হযরত উসমান ইবনে আফফান(রাঃ)(মৃঃ ৩৫ হি)

৪।হযরত আলী ইবনে আবি তালিব(রাঃ)(মৃঃ ৪০ হি)

৫।হযরত বিলাল বিন রাবাহ(রাঃ)(মৃ ২০ হি)

৬।হযরত আকরাম বিন আবুল আকরাম(রাঃ)

৭।হযরত ইয়াস বিন বুকায়ের(রাঃ)

৮।হযরত হামজা বিন আবদুল মুত্তালিব(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৯।হযরত হাতিব বিন আবিল তায়া(রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

১০।হযরত রাবিয়া বিন আকসম(রাঃ)(মৃ খায়বার যুদ্ধে শহীদ)

১১।হযরত খুনাইছ বিন হুজায়ফা(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১২।হযরত জুবায়ের বিন ইয়াস(রাঃ)

১৩।হযরত জাহির বিন হারাম(রাঃ)

১৪।হযরত জিয়াদ বিন কাব বিন আমর(রাঃ)

১৫।হযরত জায়েদ বিন খাত্তাব(রাঃ)

১৬।হযরত ছায়িব বিন মাজউন কুরাইশী(রাঃ)

১৭।হযরত সালিম বিন মা’কল(রাঃ)

১৮।হযরত ছুবরা বিন ফাতিক আল আসাদী(রাঃ)

১৯।হযরত ছায়িব বিন উসমান বিন মাজউন(রাঃ)

২০।হযরত সাদ বিন খাওলী(রাঃ)

২১।হযরত সাদ বিন আবি ওকাস কুরাইশী(রাঃ)(মৃ ৫৫ হি)

২২।হযরত সালিত বিন আমার(রাঃ)(মৃ ১৪ হি)

২৩।হযরত সায়ীদ বিন জায়েদ বিন আমর(রাঃ)(মৃ ৫১ হি)

২৪।হযরত সাওয়ীত বিন সাদ(রাঃ)

২৫।হযরত সুয়াইদ বিন মুখশী(রাঃ)

২৬।হযরত শুজা বিন আবি ওহাব(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

২৭।হযরত সাহল বিন বাইদা(রাঃ)

২৮।হযরত শামাস বিন উসমান(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২৯।হযরত শাকরান হাবলী(রাঃ)

৩০।হযরত সুহায়েব বিন সিনান(রাঃ)

৩১।হযরত সাফওয়ান বিন বাইদা(রাঃ)(মৃ ২৮ হি)

৩২।হযরত তালহা বিন উবায়দুল্লাহ(রাঃ)(মৃ উষ্ট্রের যুদ্ধে শহীদ)

৩৩।হযরত তুফায়েল বিন হারিছ(রাঃ)(মৃ ৩৩ হি)

৩৪।হযরত আকিল বিন বুকায়ের(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

৩৫।হযরত তুলায়েব বিন উমায়ের(রাঃ)(মৃ ইয়ারমুকের যুদ্ধে শহীদ)

৩৬।হযরত আমির বিন রাবীয়া(রাঃ)

৩৭।হযরত আমির বিন হারিছ(রাঃ)

৩৮।হযরত আমির বিন ফুহায়রা(রাঃ)(মৃ ৪ হি)

৩৯।হযরত আমির বিন আবদুল্লাহ(রাঃ)(মৃ ১৮ হি)

৪০।হযরত আবদুর রহমান বিন সাহল(রাঃ)

৪১।হযরত আবদুল্লাহ বিন জাহাশ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৪২।হযরত আবদুল্লাহ বিন সাঈদ(রাঃ)

৪৩।হযরত আবদুল্লাহ বিন সুহায়েল(রাঃ)(মৃ ১২ হি)

৪৪।হযরত আবদুল্লাহ বিন আবদুল আসাদ(রাঃ)(মৃ ৩ হি)

৪৫।হযরত আবদুল্লাহ বিন মাখরামা(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

৪৬।হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ(রাঃ)(মৃ ৩৩ হি)

৪৭।হযরত আবদুল্লাহ বিন মাজউন(রাঃ)(মৃ ৩ হি)

৪৮।হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ(রাঃ)

৪৯।হযরত উবায়দা বিন হারিছ(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

৫০।হযরত ইয়ালিল বিন নাসির (রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) র খেলাফতকালে)

৫১।হযরত উমর বিন সুরাকা(রাঃ)(মৃ হযরত উসমান(রাঃ)খেলাফত কালে)

৫২।হযরত আমর ইবনুল হারিছ(রাঃ)

৫৩।হযরত উসমান বিন আবি আমর(রাঃ)(মৃ ৬ হি)

৫৪।হযরত উসমান বিন মাজউন(রাঃ)

৫৫।হযরত আমর বিন আবি সারখ(রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

৫৬।হযরত আমমার বিন ইয়াসির(রাঃ)(মৃ ৩৭ হি)

৫৭।হযরত উমায়ের বিন আউফ(রাঃ)

৫৮।হযরত উমায়ের বিন আবি ওক্কাস(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

৫৯।হযরত উকবা বিন ওহাব(রাঃ)

৬০।হযরত আউফ ইবনে আসাসা(রাঃ)(মৃ ৩৪হি)

৬১।হযরত ইয়াদ বিন জুহায়ের(রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

৬২।হযরত আবু মারসাদ(রাঃ)(মৃ ১৪ হি)

৬৩।হযরত কসীর ইবনে আমার(রাঃ)

৬৪।হযরত কুদামা বিন আমজউন(রাঃ)(মৃ ৩৬ হি)

৬৫।হযরত মালিক বিন আবু খাওলী(রাঃ)

৬৬।হযরত মালিক বিন উমাইয়া(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

৬৭।হযরত মালিক বিন আমর(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

৬৮।হযরত মিদলাজ বিন আমর(রাঃ)(মৃ ৫০ হি)

৬৯।হযরত মুহারিজ বিন নদ্বলা(রাঃ)(মৃ ৬ হি)

৭০।হযরত মালিক বিন উমায়লা(রাঃ)

৭১।হযরত মারছদ বিন আবু মারছদ(রাঃ)(মৃ ৩ হি)

৭২।হযরত মাসউদ বিন রাবী (রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

৭৩।হযরত মাসআব বিন উমায়ের(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৭৪।হযরত মুয়াত্তাব বিন হামরা(রাঃ)(মৃ ৫৭ হি)

৭৫।হযরত ওয়াকিদ বিন আবদুল্লাহ(রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) খেলাফতকালে)

৭৬।হযরত মাহজা বিন সালেহ(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

৭৭।হযরত মামার বিন আবি ছারাহ (রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

৭৮।হযরত ওহাব বিন মিহসা(রাঃ)

৭৯।হযরত ওহাব বিন বিন আবি সারাহ(রাঃ)

৮০।হযরত ইয়াজিদ বিন রুকায়েছ(রাঃ)

৮১।হযরত হেলাল বিন আবি খাওলী(রাঃ)

৮২।হযরত ওহাব বিন সাদ(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

৮৩।হযরত আবু হুজায়ফ বিন উতবা(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধ শহীদ)

৮৪।হযরত আবু ওয়াকিদ লায়ছী(রাঃ)(মৃ ৬৮ হি)

৮৫।হযরত আবু কাবাশা(রাঃ)

৮৬।হযরত আবু ছাবুরা(রাঃ)(মৃ ওসমান(রাঃ) র খেলাফতকালে)

আনসার সাহাবী

৮৭।হযরত উবাই বিন কাব(রাঃ)(মৃ ২০ হি)

৮৮।হযরত উসায়েদ বিন হুদায়ের (রাঃ)(মৃ ২১ হি)

৮৯।হযরত উবাই বিন সাবিত(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনার যুদ্ধে শহীদ)

৯০।হযরত আসবোরা বিন আমর(রাঃ)

৯১।হযরত আনাস বিন মুয়াজ(রাঃ)(মৃ উসমান(রাঃ)র খেলাফতকালে)

৯২।হযরত আনাছ বিন মালিক(রাঃ)(মৃ ৯২/৯৩ হি)

৯৩।হযরত আনিস বিন কাতাদাহ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৯৪।হযরত আনাসা মাওলায়ে রাসুলুল্লাহ(রাঃ)(মৃ আবুবকর(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

৯৫।হযরত আউস বিন খাওলী(রাঃ)(মৃ ঊসমান(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

৯৬।হযরত আউস বিন সাবিত (রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৯৭।হযরত আউস বিন সামিত(রাঃ)(মৃ ওসমান(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

৯৮।হযরত বিশর বিন বারা বিন মারুর(রাঃ)(মৃ খায়বর এ বিষ প্রয়োগে)

৯৯।হযরত ইয়াছ বিন ওদকা(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ ১২ হি)

১০০।হযরত বশির বিন সাদ (রাঃ)(মৃ আইনুত তামারের যুদ্ধে শহীদ)

১০১।হযরত সাবিত বিন আকরাম(রাঃ)(মৃ ১২ হি)

১০২।হযরত সাবিত বিন জাজা(রাঃ)(মৃ তায়েফের যুদ্ধে শহীদ)

১০৩।হযরত সাবিত বিন খালিদ(রাঃ)(মৃ ইয়ামামা অথবা বীরে মাউনার যুদ্ধে )

১০৪।হযরত সাবিত বিন ওবায়দা(রাঃ)(মৃ সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ)

১০৫।হযরত সাবিত বিন আমির(রাঃ)(মৃ ১২ হি)

১০৬।হযরত সাবিত বিন আমর(রাঃ)(মৃ ওহুদের যুদ্ধে শহীদ)

১০৭।হযরত সালাবা নি হাতিব(রাঃ)

১০৮।হযরত সাবিত বিন হাজাল(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ ১২ হি)

১০৯।হযরত সালাবা বিন আমর(রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) এর খেলাফতকালে শহীদ)

১১০।হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ(রাঃ)

১১১।হযরত সালাবা বিন গনামা(রাঃ)(মৃ খন্দকের যুদ্ধে শহীদ)

১১২।হযরত জাবির বিন আতিক(রাঃ)(মৃ ৬১ হি)

১১৩।হযরত যুবায়ের বিন আদি(রাঃ)(মৃ ৪ হি ফাসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে)

১১৪।হযরত হারিছা বিন সুরাকা(রাঃ)(মৃ বদরের যুদ্ধে প্রথম শহীদ)

১১৫।হযরত খাল্লাদ বিন রাফে(রাঃ)

১১৬।হযরত রেফায়া বিন রাফে(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়া(রাঃ) এর শাসনকালের প্রথমদিকে)

১১৭।হযরত রবী বিন ইয়াছ(রাঃ)

১১৮।হযরত আবু লুবাবা রেফায়া বিন আবদুল মুনজির(রাঃ)(মৃ আলী(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

১১৯।হযরত রেফায়া বিন আমর(রাঃ)

১২০।হযরত রেফায়া বিন আমর বিন জায়েদ(রাঃ)

১২১।হযরত যায়েদ বিন দাছনা(রাঃ)(মৃ ৩ হি শহীদ)

১২২।হযরত জায়েদ বিন আসিম(রাঃ)

১২৩।হযরত জায়েদ বিন সাহল(রাঃ)(মৃ ৫১ হি)

১২৪।হযরত জায়েদ বিন মুজাইন(রাঃ)(মৃ রজীর ঘটনার দিন ধরে নিয়ে শহীদ করা হয়)

১২৫।হযরত জিয়াদ বিন লবীদ(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়া(রাঃ)এর শাসনামলে)

১২৬।হযরত সালিম বিন ওমায়ের(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়া(রাঃ) এর শাসনামলে)

১২৭।হযরত সুরাকা বিন আমর(রাঃ) (মৃ মুতার যুদ্ধে শরীফ হন)

১২৮।হযরত সুবায়ে বিন কায়েস(রাঃ)

১২৯।হযরত সুফিয়ান বিন বিশর(রাঃ)

১৩০।হযরত সাদ বিন খাওলী(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ হন)

১৩১।হযরত সুরাকা বিন কা’ব(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়ার শাসনামলে)

১৩২।হযরত সাদ বিন খায়সুমা(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

১৩৩।হযরত সাদ বিন সাহল(রাঃ)

১৩৪।হযরত সাদ বিন রাবী(রাঃ)(মৃত অহুদ যুদ্ধে শহীদ হন)

১৩৫।হযরত সাদ বিন উবায়েদ(রাঃ)(মৃ ১৫ হি কাদেসিয়ার যুদ্ধে শহীদ হন)

১৩৬।হযরত সাদ(রাঃ)

১৩৭।হযরত সাদ বিন জায়েদ(রাঃ)

১৩৮।হযরত সাদ বিন উসমান(রাঃ)

১৩৯।হযরত সায়ীদ বিন সুহায়েল(রাঃ)

১৪০।হযরত সাদ বিন মু’আজ(রাঃ)(মৃ খন্দকের যুদ্ধে তীরের আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীকালে শহীদ হন)

১৪১।হযরত সুফিয়ান বিন বশর(রাঃ)

১৪২।হযরত সালমা বিন সাবিত(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৪৩।হযরত সালামা আসসালাম(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৪৪।হযরত সালমা বিন হাতিব(রাঃ)

১৪৫।হযরত সুলাইত বিন কায়েছ(রাঃ)(মৃ জাসারে আবু উবায়েদের ঘটনায় শহীদ)

১৪৬।হযরত সালমা বিন সালামত(রাঃ)(মৃ ৫৫ হি)

১৪৭।হযরত সুলাইম বিন হারিস(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

১৪৮।হযরত সুলাইম বিন আমার(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৪৯।হযরত সুলাইম বিন মিলহান(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনার যুদ্ধে শহীদ)

১৫০।হযরত সুলাইম বিন কায়েস(রাঃ)

১৫১।হযরত সেমাক বিন সাদ(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

১৫২।হযরত সেমাক বিন খরশাতা(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

১৫৩।হযরত সেনান বিন আবি সেনান(রাঃ)

১৫৪।হযরত সাহল বিন হুনায়েফ(রাঃ)(মৃ ২৮ হি)

১৫৫।হযরত সেনান বিন সাইফী(রাঃ)

১৫৬।হযরত সাহল বিন আতিক(রাঃ)

১৫৭।হযরত সুহায়েল বিন রাফে(রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

১৫৮।হযরত সাহল বিন কায়েস(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহিদ)

১৫৯।হযরত সুহায়েল বিন আমর(রাঃ)(মৃ ৩৭ হি সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ)

১৬০।হযরত সাওয়াদ বিন ইয়াজিদ(রাঃ)

১৬১।হযরত সাওয়াদ ইবনে গাজিয়্যাহ(রাঃ)

১৬২।হযরত দ্বাহাক বিন হারিছা(রাঃ)

১৬৩।হযরত দামরা বিন আমর(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৬৪।হযরত দাহাক বিন আবদে আমর(রাঃ)

১৬৫।হযরত তোফায়েল বিন মালিক(রাঃ)

১৬৬।হযরত আসিম বিন সাবিত(রাঃ)(মৃ মক্কা ও গাসফানের মধ্যবর্তী স্থানে বনু লাহইয়ান গোত্রের লোকেরা তাকে শহীদ করে )

১৬৭। হযরত আমির বিন উমাইয়া(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৬৮।হযরত আসিম বিন কায়েস(রাঃ)

১৬৯।হযরত আমির বিন সাবিত(রাঃ)

১৭০।হযরত আমির বিন আবদে আমর(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৭১।হযরত আরিজ বিন মা’য়ীদ(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

১৭২।হযরত আমির বিন মুখাল্লাদ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৭৩।হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাবা(রাঃ)

১৭৪।হযরত আবদুল্লাহ বিন আনজাদ(রাঃ)

১৭৫।হযরত আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৭৬।হযরত আবদুল্লাহ বিন হুমায়ের(রাঃ)

১৭৭।হযরত আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

১৭৮।হযরত আবদুল্লাহ বিন রাবী(রাঃ)

১৭৯।হযরত আবদুল্লাহ বিন জায়েদ(রাঃ)(মৃ ৩২ হি)

১৮০।হযরত আবদুল্লাহ বিন সালিমা(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৮১।হযরত আবদুল্লাহ বিন আমির(রাঃ)

১৮২।হযরত আবদুল্লাহ বিন তারিফ(রাঃ)(মৃ রজী নামক স্থানে শহীদ)

১৮৩।হযরত আবদুল্লাহ বিন আবদে মনাফ(রাঃ)

১৮৪।হযরত আবদুল্লাহ বিন উবায়েস(রাঃ)

১৮৫।হযরত আবদুল্লাহ বিন আবাস(রাঃ)

১৮৬।হযরত আবদুল্লাহ বিন সাহল(রাঃ)

১৮৭।হযরত আবদুল্লাহ বিন উরফুতা(রাঃ)

১৮৮।হযরত আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ(রাঃ)(মৃ ১২ হি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

১৮৯।হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

১৯০।হযরত আবদুল্লাহ বিন কায়েস বিন খালিদ(রাঃ)(মৃ উসমান(রাঃ) এর খেলাফতকালে)

১৯১।হযরত আবদুল্লাহ বিন কা’বা মাজিনী(রাঃ)(মৃ উসমান (রাঃ) এর শাসনকালে)

১৯২।হযরত আবদুর রহমান বিন জবর(রাঃ)(মৃ ৩৪ হি)

১৯৩।হযরত আবদুল্লাহ বিন নো’মান(রাঃ)

১৯৪।হযরত আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

১৯৫।হযরত আবদে রাব্বি বিন হক্ক(রাঃ)

১৯৬।হযরত আবদুর রহমান বিন কাব(রাঃ)(তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করার কারণে প্রচন্ড অনুতপ্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাযিল হয়)

১৯৭।হযরত আব্বাদ বিন বিশর(রাঃ)

১৯৮।হযরত আব্বাদ বিন কয়েস(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

১৯৯।হযরত আব্বাদ বিন খাশখাশ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২০০।হযরত আব্বাদ বিন কায়েস(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

২০১।হযরত উবাদা বিন কায়েস(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

২০২।হযরত উবাদা বিন সামিত(রাঃ)(মৃ ৩২ হি)

২০৩।হযরত উবায়েদ বিন আবু উবায়েদ(রাঃ)

২০৪।হযরত উবাদা বিন কায়েস(রাঃ)(মৃ মুতার যুদ্ধে শহীদ)

২০৫।হযরত উবায়দা বিন তাইয়্যিহান(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২০৬।হযরত উবায়েদ বিন বিন জায়েদ(রাঃ)

২০৭।হযরত উবায়েদ বিন আউস(রাঃ)

২০৮।হযরত আবস বিন আমির(রাঃ)

২০৯।হযরত উৎবা বিন গাজওয়ান(রাঃ)(মৃ ১৫ হি)

২১০।হযরত উৎবা বিন আওদুল্লাহ(রাঃ)

২১১।হযরত ইতবান বিন মালিক(রাঃ)

২১২।হযরত উসায়মা(রাঃ)

২১৩।হযরত আদি বিন জাগবা(রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) র খেলাফতকালে)

২১৪।হযরত উসায়মা(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়া(রাঃ) র শাসনামলে)

২১৫।হযরত উকবা বিন আমির(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

২১৬।হযরত আতিয়া ইবনে নূওয়াইয়া(রাঃ)

২১৭।হযরত উকবা বিন রাবিয়া(রাঃ)

২১৮।হযরত উকবা বিন ওহাব(রাঃ)

২১৯।হযরত উকবা বিন উসমান(রাঃ)

২২০।হযরত আলিফা বিন আদি(রাঃ)

২২১।হযরত আমার বিন ইয়াস(রাঃ)

২২২।হযরত আমার বিন সালবা(রাঃ)

২২৩।হযরত আমর বিন জুমুহ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২২৪।হযরত আওর বিন আউফ(রাঃ)

২২৫।হযরত আমর বিন আতামা(রাঃ)

২২৬।হযরত আমর বিন গজিয়া(রাঃ)

২২৭।হযরত আমর বিন মুয়াজ(রাঃ)(মৃ ওহুদের যুদ্ধে শহীদ)

২২৮।হযরত উমারা বিন হাজম (রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

২২৯।হযরত উমায়ের বিন আমির(রাঃ)

২৩০।হযরত আমর বিন মুয়িদ(রাঃ)

২৩১।হযরত উমর বিন হারিছ(রাঃ)

২৩২।হযরত উমায়ের হুমাম (রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

২৩৩।হযরত উমায়ের(রাঃ)

২৩৪।হযরত উমায়ের বিন মাবদ(রাঃ)

২৩৫।হযরত আমমার বিন যিয়াদ(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

২৩৬।হযরত আউফ বিন আছরা(রাঃ)

২৩৭।হযরত আনতারা(রাঃ)(মৃ ওহুদ অথবা সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ)

২৩৮।হযরত উয়েম বিন সায়োদা(রাঃ)(মৃ রাসূল(সাঃ) এর জীবদ্দশায়)

২৩৯।হযরত গানাম(রাঃ)

২৪০।হযরত ওয়াইমীর বিন আশকর(রাঃ)

২৪১।হযরত ফারওয়া বিন আমার(রাঃ)

২৪২।হযরত কাতাদা বিন নোমান(রাঃ)(মৃ ২৩ হি)

২৪৩।হযরত ফাকেহা বিন বশীর(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

২৪৪।হযরত কায়েস বিন সাকান(রাঃ)(মৃ ১৫ হি জাসরে আবু ওবায়েদ যুদ্ধে শহীদ হন)

২৪৫।হযরত কুতবা বিন আমির(রাঃ)(মৃ ওসমানের শাসনামলে শহীদ হন)

২৪৬।হযরত কায়েস বিন আমর(রাঃ)

২৪৭।হযরত কায়েস বিন মাখলাদ(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২৪৮।হযরত কায়েস বিন মিহছান(রাঃ)

২৪৯।হযরত কায়েস বিন আবি ছা’ছা(রাঃ)

২৫০।হযরত কাব বিন জায়েদ(রাঃ)(মৃ খন্দকের যুদ্ধে শহীদ হন)

২৫১।হযরত কাব বিন জাম্মাজ(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন)

২৫২।হযরত কাব বিন আমর(রাঃ)(মৃ ৫৫ হি)

২৫৩।হযরত মালিক বিন দুখাইশম(রাঃ)

২৫৪।হযরত মালিক বিন তাইহান(রাঃ)(মৃ ১২ হি)

২৫৫।হযরত মালিক বিন রাফে(রাঃ)

২৫৬।হযরত মালিক বিন কুদামা(রাঃ)

২৫৭।হযরত মালিক বিন রাবিয়া(রাঃ)(মৃ ৫০ হি আসহাবে বদরের তিনিই সর্বশেষ ওয়াত প্রাপ্ত ব্যক্তি)

২৫৮।হযরত মালিক বিন মাসঊদ(রাঃ)

২৫৯।হযরত মুবশশির বিন আবদুল মুনজির(রাঃ)

২৬০।হযরত মালিক বিন নোমায়লা(রাঃ)

২৬১।হযরত মুজাজির বিদ যিয়াদ(রাঃ)(মৃ ওহুদের যুদ্ধে শহীদ)

২৬২।হযরত মুহম্মদ বিন মুসলিমা(রাঃ)(মৃ ৪৭ হি)

২৬৩।হযরত মুহাররিজ বিন আমির(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধের দিন ভোরে)

২৬৪।হযরত মুরাবা বিন রাবিয়া(রাঃ)।(তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার জন্য যে তিনজন সাহাবীর তওবা কবুল হওয়ার ঘটনা কোরানে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি তাদের অন্যতম।)

২৬৫।হযরত মাসউদ বিন খালদা(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনা অথবা খায়বার যুদ্ধে শহীদ হন)

২৬৬।হযরত মাসউদ বিন আউস(রাঃ)(মৃ ওমর(রাঃ) র আমলে)

২৬৭।হযরত মাসউদ বিন রাজী(রাঃ)(মৃ ৩০ হি)

২৬৮।হযরত মাসউদ বিন আবদে সউদ(রাঃ)

২৬৯।হযরত মাসউদ বিন সাদ(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনার ঘটনায় শহীদ)

২৭০।হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল(রাঃ)(মৃ ১২ হি)

২৭১।হযরত মুয়াজ বিন আমর ইবনুল জুমুহ(রাঃ)র (তারই আক্রমণে আবু জেহেল মাটিতে গড়িয়ে পড়ে এবং নিহত হয়)

২৭২।হযরত মুয়াজ বিন আফরা(রাঃ)(মৃ আলী(রাঃ)র খেলাফতকালে )

২৭৩।হযরত মুয়াজ ইবনে মায়িদ(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনার ঘটনায় শহীদ)

২৭৪।হযরত মা’বদ বিন কয়েস(রাঃ)

২৭৫।হযরত মা’বদ ইবনে উবাদা(রাঃ)

২৭৬।হযরত মা’বদ বিন ওহব(রাঃ)

২৭৭।হযরত মুয়াত্তাব ইবনে উবায়েদ(রাঃ)

২৭৮।হযরত মুয়াত্তাব বিন বশীর(রাঃ)

২৭৯।হযরত মাকাল বিন মুহাজির(রাঃ)

২৮০।হযরত মাআন বিন আদি(রাঃ)

২৮১।হযরত মা’মুর বিন হারিস(রাঃ)

২৮২।হযরত মা’আন বিন ইয়াজিদ(রাঃ)

২৮৩।হযরত মুআওয়ীজ বিন আফরা(রাঃ)

২৮৪।হযরত মা’আন বিন আফরা(রাঃ)

২৮৫।হযরত মুলাইল বিন ওয়ীরা(রাঃ)

২৮৬।হযরত মুনজির বিন উরফুজা(রাঃ)

২৮৭।হযরত মুনজির বিন কুদামা(রাঃ)

২৮৮।হযরত মুনজির বিন মুহাম্মদ(রাঃ)(মৃ বীরে মাউনার ঘটনায় শহীদ)

২৮৯।হযরত নসর বিন হারিস(রাঃ)

২৯০।হযরত নাহাস বিন সালাবা(রাঃ)

২৯১।হযরত নোমান বিন আবি খাজামাহ(রাঃ)

২৯২।হযরত নোমান বিন আবদে আমর(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

২৯৩।হযরত নোমান বিন সিনান(রাঃ)

২৯৪।হযরত নোমান বিন আকর(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

২৯৫।হযরত নোমান বিন মালিক(রাঃ)

২৯৬।হযরত নোমান বিন আমর(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়ার শাসনামলে)

২৯৭।হযরত নোয়ায়েমান বিন আমর(রাঃ)(মৃ মুয়াবিয়া (রাঃ) এর শাসনামলে)

২৯৮।হযরত হানি বিন নাইয়ার(রাঃ)(মৃ ৪৫ হি)

২৯৯।হযরত নওফল বিন সালাবা(রাঃ)(মৃ ওহুদ যুদ্ধে শহীদ)

৩০০।হযরত হোবায়েল বিন ওবরাহ(রাঃ)

৩০১।হযরত হেলাল বিন মুয়াল্লা(রাঃ)

৩০২।হযরত হেলাল বিন উমাইয়া(রাঃ)।(তাবুক যুদ্ধে যে তিনজন অংশগ্রহণ না করার কারণে অনুতপ্ত হয়েছিলেন তিনি তার একজন।)

৩০৩।হযরত হোমাম বিন হারিস(রাঃ)

৩০৪।হযরত ওদিয়া বিন আমর (রাঃ)

৩০৫।হযরত ওদকা বিন ইয়াস(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

৩০৬।হযরত ইয়াজিদ বিন সালাবা(রাঃ)

৩০৭।হযরত ইয়াজিদ বিন মুনজির(রাঃ)

৩০৮।হযরত ইয়াজিদ বিন হারিস(রাঃ)(মৃ বদর যুদ্ধে শহীদ)

৩০৯।হযরত আবু সরমা(রাঃ)(শীর্ষ স্থানীয় কবি ছিলেন)

৩১০।হযরত আবু ঈসা হারিসী(রাঃ)(মৃ ওসমান(রাঃ)র খেলাফতকালে)

৩১১।হযরত আবু দাইয়াহ(রাঃ)(মৃ খায়বার যুদ্ধে শহীদ)

৩১২।হযরত আবু মুলাইল((রাঃ)

৩১৩।হযরত আবু ফুদালা(রাঃ)

এছাড়া কোন কোন ঐতিহাসিকদের মতে নম্নোক্ত সাহাবীগণও বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন-

৩১৪।হযরত আমর বিন কায়েস(রাঃ)

৩১৫।হযরত আবদুল্লাহ বিন ছুরাকা(রাঃ)

৩১৬।হযরত আসআদ বিন ইয়াজিদ(রাঃ)

৩১৭।হযরত রেফায়া বিন হারেস(রাঃ)

৩১৮।হযরত যায়েদ বিন আছলাম(রাঃ)

৩১৯।হযরত যায়েদ বিন ওদীয়া(রাঃ)

৩২০।হযরত আসিম বিন বুকায়ের(রাঃ)

৩২১।হযরত আমির বিন সালমা(রাঃ)

৩২২।হযরত আবদুল্লাহ বিন সাদ বিন খায়সুমা(রাঃ)

৩২৩।হযরত আবদুল্লাহ বিন সাহেল(রাঃ)(মৃ খন্দকের যুদ্ধে শহীদ)

৩২৪।হযরত আবদুল্লাহ বিন উমায়ের(রাঃ)

৩২৫।হযরত আবদুল্লাহ বিন কায়েস সখর(রাঃ)

৩২৬।হযরত আব্বাদ বিন কায়েস(রাঃ)

৩২৭।হযরত ইসমত(রাঃ)

৩২৮।হযরত আসমত ইবনে হাসীন(রাঃ)

৩২৯।হযরত উকবা বিন আমর(রাঃ)

৩৩০।হযরত উমায়ের বিন হারাম(রা)

৩৩১।হযরত নুমান বিন কাওকাল(রাঃ)

৩৩২।হযরত ইয়াজিদ বিন আখনাস(রাঃ)

৩৩৩।হযরত ইয়াজিদ বিন সাবিত(রাঃ)(মৃ ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ)

৩৩৪।হযরত ইয়াজিদ বিন আমির (রাঃ)

৩৩৫।হযরত আবু কাতাদা(রাঃ)(মৃ ৪১ হি)

সেয়াহ সেত্তা ও সংকলকবৃন্দ

এবার সেয়াহ সেত্তা ও তার সংকলক বৃন্দের পুরো নাম, জন্ম ও মৃত্যু সন দেয়া হল।

নং গ্রন্থের নাম সংকলকদের পুরো নাম জন্ম মৃত্যু
বোখারী শরীফ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বোখারী ১৯৪ হি ২৫৬ হি
মুসলিম শরীফ আবুল হোসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাঈরীরী আল নিশাপুরী ২০৬ হি ২৬১ হি
তিরমিজী শরীফ ইমাম আবু ঈসা তিরমিজী ২০৯ হি ২৭৯ হি
আবু দাউদ শরীফ ইমাম আবু দাউদ সাজিস্তানী ২০২ হি ২৬১ হি
নাসায়ী শরীফ ইমাম আহামদ ইবনে শোয়াইব নাসায়ী ২১৫ হি ৩৪৩ হি
ইবনে মাজাহ শরীফ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে সাজাহ কাযবীনি ২০৯ হি ২৭৩ হি

 

সেয়াহ সেত্তা ছাড়া যে হাদীস গ্রন্থগুলি উল্লেখযোগ্য

নং গ্রন্থের নাম সংকলকের নাম রচনা কাল
আল মুয়াত্তা ইমাম ইবনে মালেক
সুনানে দারেমী ইমাম ইবনে আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান সমরকন্দী দারেমী।(বর্তমানে উজবেকিস্তানের অন্তর্গত)
সহীহ ইবনে খুজাইমা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক ৩১১ হি
সহীহ ইবনে হিব্বান আবু হাতেম মুহাম্মদ বিন হিব্বান বোস্তী ৩৫৪ হি
আল মোস্তাদরক হাকেম আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরী ৪০২ হি
আল মুখতারা জিয়াউদ্দীন মাকছেদী ৭৪৩ হি
সহীহ আবু আওয়ানাহ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ৩১১ হি
আল মোনাকাতা ইবনুল জারুদ আবদুল্লাহ ইবনে আলী

 

ইমাম বোখারী(রঃ) এর উপাধি

হাদীস সংগ্রহ সংকলন ও সংরক্ষণে অনন্য ও অনবদ্য অবদানের জন্য ইমাম বোখারী(রঃ) ‘ইমামুল মুহাদ্দেসীন’ ও ‘আমিরুল মুমিনীন ফীল হাদীস’ উপাধিতে ভূষিত হন।

বোখারী শরীফে হাদীসের সংখ্যা

বোখারী শরীফে একাধিকবার উদ্ধৃত হাদীসসহ সর্বমোট হাদীস হচ্ছে ৯০৮২ টি। এর ভেতর থেকে মুয়ালিক,মুতাবিয়াত ও মওকুফ বাদ দিলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৩৯৭ টি। আর একাধিকবার উল্লেখিত হাদীস বাদ দিলে মোট হয় ২০৬২ টি। অন্য এক হিসাবে পাওয়া যায় হাদীসের সংখ্যা ২৭৬১ টি।

ইমাম বোখারীর প্রধান প্রধান ছাত্রের নাম ও মৃত্যুর তারিখ

১।ইব্রাহীম ইবনে মা’কাল ইবনুল হাজ্জাজ আন নাসাফী(মৃ ২৯৪ হি)

২।হাম্মাদ ইবনে শাকের নাসাফী(মৃ ৩১১ হি)

৩।মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল ফারবারী(মৃ ৩২০ হি)

৪। আবু তালহা মনসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে করীমা আল বজদুবী(মৃ ৩২৯ হি)

মুসলিম শরীফের হাদীস সংখ্যা

এ গ্রন্থে সর্বমোট বারো হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ আছে। একাধিকবার উদ্ধৃত হাদীস এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ বাদ দিয়ে হিসেব করলে হাদীসের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার।

সুনানে আবু দাউদ শরীফে হাদীস সংখ্যা

ইমাম আবু দাউদ পাঁচ লক্ষ হাদীস হতে যাচাই বাচাই ও চয়ন করে এই গ্রন্থে মোট ৪৮০০ টি হাদীস স্থান দিয়েছেন।

আল মোয়াত্তার হাদীস সংখ্যা

মোয়াত্তা ইমাম মালেক বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৭০০ টি।

মুত্তাফাকুন আলাইহি

মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসের সংখ্যা ২৩২৬ টি।এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় সাহাবীদের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৪ হাজার।

সপ্তম শতকের ভারতীয় মুহাদ্দিস

সপ্তম শতকে আমাদের এই উপমহাদেশে যে সমস্ত মুহাদ্দিস ছিলেন তাদের কয়েক জনের নাম এবং মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করছি-

১।শায়খ বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানী(মৃ ৬৬৬ হি)

২।কাজী মিনহাজুল সিরাজ জুজানী(মৃ ৬৬৮ হি)

৩।বুরহান উদ্দীন মাহমুদ ইবনে আবুল খায়ের আসাদ বলখী(মৃ ৬৮৭ হি)

৪।কামাল উদ্দীন জাহিদ(মৃ ৬৮৪ হি)

৫।রাজী উদ্দীন বদায়ুনী(মৃ ৭০০ হি)

৬।শরফুদ্দীন আবু তাওয়াম বোখারী হাম্বলী(মৃ ৭০০ হি)

ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত পাচজন মুহাদ্দিসের নাম

১।শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী(রঃ)

২।শায়খ আবদুল আজিজ দেহলবী(রঃ)

৩।শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেহলবী(রঃ)

৪।শায়খ মুহাম্মদ ইসহাক দেহলবী(রঃ)

৫।শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দেস দেহলবী(রঃ)

ইমাম বোখারী(রঃ)

ইমাম বোখারীর পূর্ণ নাম হল আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম। তিনি বোখারা (বর্তমানে রাশিয়া)নগরে ১৯৪ হিজরীর ১ শাওয়াল শুক্রবার দিন জন্মগ্রহণ করেন। ছোট অবস্থায় তার পিতা মারা যান। মায়ের আদর যত্নেই তিনি মানুষ হন। দশ বছর বয়সের সময় হতেই তিনি হাদীস অধ্যয়নে মন দেন এবং একদিন সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করেন।

ইমাম বোখারী খরতংকে (সমরকন্দের নিকট) শহরে ২৫৬ হিজরী সনের ৩০ শে রজব ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম মুসলিম (রঃ)

ইমাম মুসলিমের পূর্ণ নাম হচ্ছে আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল কুশাইরী আন নিশাপুরী। তিনি ২০৪ হিজরী সনে খোরাসানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকেই তিনি হাদীস শিক্ষায় মন দেন।ইমাম বোখারী নিশাপুর উপস্থিত হলে ইমাম মুসলিম তার সঙ্গ নেন। পরে তিনি হাদীস সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী হন। ইমাম মুসলিম ২৬১ হিজরী সনে ৫৭ বছর বয়সে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম নাসায়ী (রঃ)

ইমাম নাসায়ীর পূর্ব নাম আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে বহর ইবনে মান্নান ইবনে ইবনে দীনার আল নাসায়ী।খোরাসানের অন্তর্গত ‘নাসা’ নামক শহরে ২১৫ হিজরী সনে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ১৫ বছর বয়সেই তিনি হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করেন। ইনি হাদীসের বড় হাফেজ ছিলেন। ইমাম নাসায়ী(রঃ) মক্কায় হিজরী ৩০৩ সনে ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম আবু দাউদ(রঃ)

ইমাম আবু দাউদের পূর্ণ নাম সুলাইমান ইবনুল আশখাস ইবনে ইসহাক আল আসাদী আস সিজিস্তানী।কান্দাহার ও চিশত এর নিকট সীস্তান নামক এক স্থানে তিনি ২০২ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। হাদীস শিক্ষার জন্য তিনি মিশর,সিরিয়া,হিজাজ,ইরাক ও খোরাসান প্রভৃতি প্রখ্যাত হাদীস কেন্দ্রসমূহ ভ্রমণ করেন এবং হাদীসে অসাধারণ জ্ঞান ও গভীর পান্ডিত্য লাভ করেন।

ইমাম তিরমিযী(রঃ)

ইমাম তিরমিযীর পূর্ণ নাম আল ইমামুল হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সওরাতা ইবনে মুসা ইবনে সুলামী আত তিরমিযী।জীহুল নদীর বেলা ভূমে অবস্থিত তিরমিয নামক প্রাচীন শহরে তিনি ২০৯ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কুফা,বসরা,রাই,খোরাসান, ইরাক ও হিজাজ ভ্রমণ করেন এবং হাদীসের অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারী হন। তিনি ২৭৯ হিজরী সনে তিরমিযি শহরেই সত্তর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম ইবনে মাজাহ(রঃ)

ইমাম ইবনে মাজাহ’র পূর্ণ নাম আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ আল কারভীনি। তিনি ২০৯ হিজরী সনে কাজভীন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহের জন্য মদীনা, মক্কা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, ওয়ামত, দামেশক, হিমস, মিশর, তিন্নীস, ইসফাহান, নিশাপুর প্রভৃতি হাদীসের কেন্দ্রসমূহ ভ্রমণ করেন। তিনি বহু গ্রন্থও লিখেছেন। হাদীসের ওপর নির্ভর করে তিনি কোরআন মজীদের একখানি বিরাট তাফসীরও লিখেছেন। তিনি ২৭৩ হিজরী সনের সোমবার ৬৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

— সমাপ্ত —

Date insert:

Feedback & Suggestions






Email Subscription